বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের লকার থেকে ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার গায়েব, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
বাগেরহাটে ব্যাংক লকার থেকে ২০০ ভরি স্বর্ণ গায়েব, তদন্ত চলছে

বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের লকার থেকে ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার গায়েব

বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী সড়কে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের একটি শাখার লকার থেকে গ্রাহকের রাখা প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তদন্তে নেমেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে সিআইডি, জেলা পুলিশ ও পিবিআই কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন।

গ্রাহকের অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া

গ্রাহক সুমন কুমার দাস বাগেরহাট সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার এই ব্যাংকের লকারে রাখা হয়। গত বুধবার পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য স্বর্ণ নিতে গিয়ে তিনি দেখতে পান লকারটি ফাঁকা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়।

পূবালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মনিরুল আমিন বলেন, 'লকার খুলতে দুটি চাবি লাগে, একটি গ্রাহকের কাছে এবং অন্যটি ব্যাংকের কাছে থাকে। অভিযোগকারী গ্রাহকের চাবি তাঁর কাছেই ছিল, যা ছাড়া লকার খোলা সম্ভব নয়। এখানে তিনি কী রেখেছিলেন, তার কোনো ঘোষণাও ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে পুরো ঘটনা বেরিয়ে আসবে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

এই ঘটনার খবর পেয়ে লকার ব্যবহারকারী অনেক গ্রাহকই ব্যাংকে ছুটে আসেন এবং তাঁদের লকার খুলে দেখেন। শহরের নাগের বাজার ও আমলাপাড়া এলকার দুজন গ্রাহক জানান, তাঁরা লকার থেকে স্বর্ণালংকার গায়েব হওয়ার খবর পেয়ে এসেছেন, কিন্তু তাঁদের লকারে রাখা স্বর্ণালংকার সব ঠিকঠাক আছে বলে উল্লেখ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন বলেন, 'ব্যাংকের লকার থেকে স্বর্ণালংকার খোয়া গেছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি এবং তদন্ত শেষে স্পষ্ট হওয়া যাবে।'

সম্পর্কিত ঘটনা ও চলমান তদন্ত

উল্লেখ্য, এই ঘটনার দুই দিন আগে একই ভবনে অবস্থিত একটি নগদ ডিস্টিবিউশন হাউস থেকে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন প্রতিষ্ঠানটির হিসাবরক্ষক মো. মনিরুজ্জামান। এ ঘটনায় বাগেরহাট সদর মডেল থানায় বুধবার মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এই দুটি ঘটনা একসঙ্গে তদন্তের আওতায় আসায় স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের যৌথ তদন্তে ঘটনার সত্যতা ও দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।