ঈদের আনন্দ শুরু হতো কোরবানির দুই-তিন দিন আগেই। দাদা, বাবা আর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে গরুর হাটে যেতাম। হাটের সেই কোলাহল, মানুষের ভিড়, গরুর ডাক, বিক্রেতাদের হাঁকডাক—সব মিলিয়ে এক অন্য রকম উৎসবের অনুভূতি কাজ করত।
গরু কেনার আনন্দ
সবাই মিলে ঘুরে ঘুরে গরু পছন্দ করতাম। দাদা গরুর দাঁত দেখে বলতেন, ‘এইটা ভালো হবে।’ বাবা দরদাম করতেন। আমি দূরে দাঁড়িয়ে সবকিছু মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। কেনা হয়ে গেলে আনন্দ কয়েক গুণ বেড়ে যেত।
গরুর যত্ন আর ভালোবাসা
গরু কেনার পর সেটিকে বাড়িতে আনার আনন্দ ছিল অন্য রকম। মনে হতো, বাড়িতে নতুন অতিথি এসেছে। আমরা ভাইবোনেরা গরুর গলায় হাত বুলাতাম, আদর করতাম, পছন্দমতো নাম রাখতাম। প্রতিদিন সকাল-বিকেল গরুর জন্য ঘাস কেটে আনতাম। কখনো নিজের হাতে পানি খাওয়াতাম, কখনো কলাপাতা এনে দিতাম। গরুর গলায় রঙিন মালা পরিয়ে খুব আনন্দ পেতাম। অল্প কয়েক দিনেই সে আমাদের পরিবারের একজন হয়ে যেত।
ঈদের আগের রাত
ঈদের আগের রাত ছিল সবচেয়ে বেশি স্মৃতিময়। গরুর পাশে বসে থাকতাম, মাথায় হাত বুলিয়ে দিতাম। মনে হতো, সে আমাদের কথা বুঝতে পারে। ঈদের দিন সকালে নতুন পোশাক পরে নামাজে যেতাম। নামাজ থেকে ফিরে শুরু হতো কোরবানির প্রস্তুতি। তখন মন খারাপ হতো। যদিও বড়দের মুখে ত্যাগের শিক্ষা শুনে বুঝতাম, ঈদুল আজহার আসল সৌন্দর্য এখানেই।
সময়ের পরিবর্তন
এখন সময় বদলে গেছে, শৈশবও হারিয়ে গেছে অনেক দূরে। তবু দাদা-বাবার সঙ্গে হাটে যাওয়া, গরুর জন্য ঘাস কাটা, গলায় মালা পরিয়ে নিজের মতো ভালোবাসার সেই দিনগুলো আজও হৃদয়ের গভীরে অমলিন স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।
সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর বন্ধুসভা



