কয়েক দশক ধরে ব্রাজিলের সমর্থনে প্রতিটি বিশ্বকাপে টেলিভিশন এবং রেডিওর সামনে জড়ো হয়েছেন হাইতির ফুটবল ভক্তরা। সেলেসাওদের দিয়েছেন আকুণ্ঠ সমর্থন। কিন্তু এই বছর তেমনটা হচ্ছে না।
হাইতির বিশ্বকাপ যাত্রা
১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম হাইতি বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে উত্তেজনাও উপচে পড়ছে। ধুলোবালিভরা খালি জায়গায় আচমকাই শুরু হয়ে যাচ্ছে ফুটবল খেলা, আর রাস্তার মোড়ে মোড়ে নিজ দেশের দলের খেলোয়াড়দের নাম খোদাই করা জার্সি বিক্রির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
গ্রেনাডিয়ার্সের চ্যালেঞ্জ
হাইতির জাতীয় দল—যারা ‘গ্রেনাডিয়ার্স’ নামে পরিচিত, তারা মরক্কো, স্কটল্যান্ড এবং ব্রাজিলের সঙ্গে গ্রুপ ‘সি’ থেকে টুর্নামেন্ট শুরু করবে। আগামী ১৯ জুন ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে তারা মুখোমুখি হবে তাদের দীর্ঘদিনের ফুটবল আইডল ব্রাজিলের।
তরুণ ফুটবলারের স্বপ্ন
১৬ বছর বয়সী গেরিয়ার লিমা সম্প্রতি তাকে রাজধানী পোর্ট-আউ-প্রিন্সের একটি খানাখন্দে ভরা রাস্তায় ফুটবল খেলতে দেখা গেছে; তার এক পায়ে ছিল স্নিকার এবং অন্য পায়ে প্লাস্টিকের স্লাইড জুতো। গোলপোস্ট হিসেবে ব্যবহার করা পাথরের মাঝখান দিয়ে গোল দেওয়ার জন্য সে ছিল উন্মুখ। হাসিমুখে বার্তা সংস্থা এপিকে বলছিলেন, ‘আমার প্রিয় দল ব্রাজিল, কিন্তু আমার দেশ এখন বিশ্বকাপে খেলছে। ব্রাজিল আমার কাছে দ্বিতীয় পছন্দ।’
লিমার পছন্দ ব্রাজিলের অবসরপ্রাপ্ত ফুটবলার কাকা। তবে তার প্রিয় খেলোয়াড় হলেন ইরানের এস্তেঘলাল ফুটবল ক্লাবের ফরোয়ার্ড নাজোন।
নিজের দেশের প্রতিনিধিত্বের ইচ্ছা
হাইতির এই শীর্ষ গোলদাতার কথা উল্লেখ করে লিমা আরও বলেন, ‘আমি ডুকেন্স নাজোন হতে চাই, টুর্নামেন্টে হাইতির প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার পরিবার আমাকে কোনো ক্লাবে পাঠানোর বা প্রশিক্ষণের খরচ বহন করার সামর্থ্য রাখে না, তবে আমি যেকোনো উপায়ে একটি ক্লাবে জায়গা করে নেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’
যেহেতু এবার হাইতি বিশ্বকাপে, তাই নিজ দেশের হয়েই গলা ফাটাতে চান লিমা। তার ভাষায়, ‘ব্রাজিল ভালো, কিন্তু আমি আমার হাইতিয়ান ভাইদের পাশে দাঁড়াবো।’



