মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিচার্জ

মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত রাজধানী

রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। এই বিক্ষোভে তারা চাহিদা মাত্র নিজেদের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন, মুনাফা থেকে ‘হেয়ারকাট’ বাতিলসহ নানা দাবি তুলে ধরেন। বিক্ষোভকারীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তাদের দাবি না মানলে আগামী ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও করা হবে।

পুলিশের লাঠিচার্জে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ

বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরতে অনুরোধ জানায়। তবে বিক্ষোভকারীরা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও জলকামান থেকে পানি ছিটিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। মতিঝিল থানার পরিদর্শক সালাহ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গ্রাহকদের প্রধান দাবিসমূহ

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ফজলুল রহমান নামে একজন আমানতকারী বলেন, পাঁচ ব্যাংকের আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কেটে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি অনুকম্পা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা ব্যাংকে আমানত রাখছি, আমরা কেন সরকারের অনুকম্পা নেবো। আমাদের ন্যায্য মুনাফা দিতে হবে।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিক্ষোভকারীরা আরও উল্লেখ করেন যে, গত দুই বছর ধরে অনেক আমানতকারী এসব ব্যাংক থেকে নিজের মূল আমানত ও মুনাফা তুলতে পারছেন না। এতে অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • হেয়ারকাট সিদ্ধান্ত বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফাসহ আমানতের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া।
  • আমানতকারীরা যাতে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন করতে পারে, চাহিদা অনুযায়ী টাকা উত্তোলন ও জমা দিতে পারেন সে ব্যবস্থা করা।

আর্থিক সংকটের প্রভাব

বিক্ষোভকারীরা ব্যাখ্যা করেন যে, এই আর্থিক সংকটের ফলে অনেক পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দাবি করেন যে, ব্যাংকগুলোর নীতির কারণে সাধারণ আমানতকারীরা তাদের সঞ্চয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা জরুরি ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই ঘটনাটি ইসলামী ব্যাংকিং খাতে চলমান সংকটের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা গ্রাহকদের আস্থা ও আর্থিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। ভবিষ্যতে আরও বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিক্ষোভকারীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।