গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধে ৯০% স্কুল ধ্বংস, শিশুদের শিক্ষা অনলাইনে সীমাবদ্ধ
গাজায় ৯০% স্কুল ধ্বংস, শিশুদের শিক্ষা অনলাইনে

গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধে স্কুল ভবনের ব্যাপক ধ্বংস, শিশুদের শিক্ষা সংকট

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের টানা দুই বছরব্যাপী সামরিক অভিযানের ফলে প্রায় ৯০ শতাংশ স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্টে সংস্থাটি এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেছে। তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবরটি নিশ্চিত করেছে।

স্কুল ভবনের করুণ অবস্থা ও শিক্ষার বিকল্প পদ্ধতি

ইউএনআরডব্লিউএ তাদের পোস্টে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় যে অল্পসংখ্যক স্কুল ভবন এখনও টিকে আছে, সেগুলোর বেশিরভাগই জরুরি অবস্থার কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলস্বরূপ, শিক্ষার্থীদেরকে অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, গাজাজুড়ে চলমান যুদ্ধের সময় প্রায় ৯০ শতাংশ স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও তাদের দল স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধের ভয়াবহ পরিসংখ্যান ও মানবিক সংকট

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরেও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৯১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ৫৭৮ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এই সংখ্যাগুলো যুদ্ধের চলমান সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া ইসরায়েলের গাজা অভিযান টানা দুই বছর ধরে চলে আসছে। এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরা অসম্ভবভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইসঙ্গে, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা অঞ্চলটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে শিশুদের শিক্ষার অধিকার রক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জরুরি মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।