গুঁড়া মসলার চেয়ে বাটা মসলার স্বাদ কেন বেশি?
গুঁড়া মসলার চেয়ে বাটা মসলার স্বাদ কেন বেশি?

গুঁড়া মসলার তুলনায় বাটা মসলার স্বাদ বেশি হয়। রান্নাঘরের কাজ সহজ করতে আজকাল অনেকেই ভরসা রাখছেন তৈরিকৃত বাটা মসলার ওপর। বাড়তি ঝামেলা এড়াতে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের প্যাকেটজাত বাটা মসলা। আদা, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ, ধনে তো আছেই। এ ছাড়া শর্ষে, পোস্তদানা, জায়ফল, মৌরি, কালিজিরা, গরম মসলাবাটা—এমনকি রোস্টের বাটা মসলাও পাওয়া যাচ্ছে সুপারশপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনলাইন পেজে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষের জন্য দ্রুত রান্নার সহজ সমাধান এই বাটা মসলা।

ক্রেতাদের পছন্দ বাটা মসলা

রাজধানী উত্তরার একটি সুপারশপে বাটা মসলা কিনতে এসেছেন শাহিন আলম। তিনি জানান, অফিস শেষে বাসায় ফিরে পেঁয়াজ-রসুন বেটে রান্না করা বেশ কষ্টকর। তাই প্রস্তুত বাটা মসলা তাঁর জন্য সুবিধাজনক। সময় ও পরিশ্রম বাঁচানোর জন্যই মিহি করে বাটা এই মসলাগুলো কেনেন তিনি। অন্যদিকে ফাতেমা আক্তার বাটা মসলা কিনছেন অতিথিদের জন্য রান্না করতে। এত মসলা হাতে বাটা বা মেশিনে ব্লেন্ড করার চেয়ে কিনে ফেলাই সহজ বলে মনে করেন ফাতেমা। কিন্তু বাজারে বিভিন্ন গুঁড়া মসলা থাকতেও হঠাৎ বাটা মসলার দিকে কেন ঝুঁকছেন ক্রেতারা?

বাটা মসলার স্বাদ ও ঘ্রাণ

রন্ধনবিদ জেবুন্নেসা বেগম জানান, বাটা মসলার ব্যবহার খাবারে নতুন নয়। আগে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ঘরে বসে মসলা বাটা হতো এবং সেই রান্নার স্বাদই ছিল অন্য রকম। রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে বাটা মসলার ভূমিকা অনেক। যেহেতু এটি শুকিয়ে গুঁড়া করা হয় না, গুঁড়া মসলার তুলনায় বাটা মসলার স্বাদ বেশি হয়। বরং মসলা বাটার সময় এর প্রাকৃতিক তেল ও ঘ্রাণ অটুট থাকে, যা রান্নার সঙ্গে সহজে মিশে যায়। ভুনা, কোরমা বা ঝোলজাতীয় রান্নায় বাটা মসলা খাবারের স্বাদকে আরও বাড়ায়। পেঁয়াজ, আদা, রসুন কিংবা মরিচ বেটে রান্না করলে মসলাগুলো ভালোভাবে কষানো যায়, এতে রান্নাও হয় সুস্বাদু।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্য সচেতনতা

বাজারজাত করা বাটা মসলার এই জনপ্রিয়তার পাশাপাশি প্রশ্ন আসে, এই মসলাগুলো আসলে কতটা স্বাস্থ্যকর? দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য রাখতে কী ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে এই মসলাগুলোতে? এ বিষয়ে কথা হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের পথ্য ব্যবস্থাবিদ্যা বিভাগের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরীর সঙ্গে। তাঁর মতে, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই বাটা মসলাগুলো কী প্রক্রিয়ায় তৈরি হচ্ছে। বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক বাটা মসলার দীর্ঘ 'শেলফ লাইফ' বা স্থায়িত্বকাল থাকে; অর্থাৎ দীর্ঘদিন পর্যন্ত একই রং, গন্ধ ও অবস্থায় সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়। কিন্তু বাসায় তৈরি বাটা মসলা খুব দ্রুত রং পরিবর্তন করে এবং বেশি দিন ভালো থাকে না। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য সেখানে কোনো ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে কি না।

প্রিজারভেটিভ ও কৃত্রিম রং

প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা যাবে না, বিষয়টা এমন নয়, যেকোনো প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, খাবারকে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে অনেক সময় কিছু সংরক্ষণ উপাদান ব্যবহার করা হয়। তবে সেগুলো মানবদেহের জন্য সহনীয় মাত্রায় আছে কি না, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে মরিচ ও হলুদের ক্ষেত্রে কৃত্রিম রং ব্যবহারের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অনেক সময় পণ্যের রং আকর্ষণীয় করতে অতিরিক্ত রং ব্যবহার করা হতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া মসলা তৈরির কাঁচামাল কতটা ভালোভাবে বাছাই করা হচ্ছে, নষ্ট বা নিম্নমানের উপাদান আলাদা করা হচ্ছে কি না, পুরো উৎপাদনপ্রক্রিয়া কতটা স্বাস্থ্যসম্মত—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

ক্রেতাদের করণীয়

পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী বলেন, প্রথমেই দেখতে হবে পণ্যে সরকারি অনুমোদনের কোনো সনদ আছে কি না। যেমন বিএসটিআইয়ের লোগো বা অনুমোদন। পাশাপাশি পণ্যের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উৎপাদনের তারিখ ও প্যাকেটের সিল ঠিক আছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি। এ ছাড়া পণ্যটি কোথা থেকে কেনা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাটা মসলা সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা না হলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তিনি বলেন, সুপারশপগুলোতে সাধারণত নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রেখে এসব পণ্য সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু অনেক ছোট দোকানে সেই ব্যবস্থা না–ও থাকতে পারে। ফলে পণ্যের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে সব সময় এসব পণ্যের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাসায় তৈরি মসলাই ব্যবহার করা ভালো বলে পরামর্শ দেন তিনি।