চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীও পার হয়নি এখনো। এর মধ্যেই শহর-গ্রাম সর্বত্র ক্ষমতাচ্যুত দলটির ফেরার আলাপ শুরু হয়ে গেছে। চায়ের আড্ডাগুলোয় মৃদু ঝড় উঠছে বলা যায়। যারা ওই দলকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল, যারা নিষিদ্ধ করেছে বা নিষিদ্ধ দেখতে চেয়েছে—বেশি উৎকণ্ঠা দেখা যাচ্ছে এ রকম মহলে। দোষারোপও চলছে মহলে মহলে।
ফেরার আলাপের উৎস ও প্রকৃতি
চলমান এই টক অব দ্য কান্ট্রিতে অফিশিয়ালি নিষিদ্ধ দলের কোনো সাংগঠনিক প্রতিনিধি নেই। মিডিয়ার মধ্যরাতের টক শোগুলোয় ওই দলের পরিচয়ে কাউকে সশরীর হাজির হতে দেখা যায় না। দেশের কোনো মিডিয়া আপাতত সে রকম ঝুঁকি নেবে বলেও মনে হয় না। আইনি সংকট আছে, মবের ভয় আছে। তাতে অবশ্য আলাপ-আলোচনা-গুঞ্জন থেমে নেই। বরং ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত-তাপে-চুলায়-দুধ-উপচে-পড়ার মতো অবস্থা।
প্রশ্ন হলো, এসব আলাপ কোনো ভীতি বা আদর্শিক দুর্বলতার ফল, নাকি তৃতীয় কারও পরিকল্পিত প্রচারণা? রক্তের দাগ শুকানো বা মাতম থামার আগে এবং ন্যায়বিচার ও সহাবস্থানের কোনো বন্দোবস্ত ছাড়া এ রকম প্রত্যাবর্তন কি সম্ভব?
যে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া দুরূহ
ইতিমধ্যে দুটি সরকার পেয়েছে বাংলাদেশ। ‘৩৬ জুলাইয়ে’র উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি এখনো। যেকোনো উত্তেজক মুহূর্তে নির্মোহ আলোচনা দুরূহ। সে রকম আলোচনার জন্য স্থান-কাল-পাত্রের হিসাবে স্বাস্থ্যকর দূরত্ব ও বিচ্ছিন্নতার প্রয়োজন। আমাদের পক্ষে সেসব শর্ত পূরণ সম্ভব নয়। যে বা যারা গণ-অভ্যুত্থান দেখেছে, আশায় আপ্লুত হয়েছে, হতাশায় বিমূঢ় হয়েছে, আগে-পরে নানান অন্যায়ে বিক্ষুব্ধ—তারা আরও দীর্ঘকাল গণ-অভ্যুত্থানের আবহে আচ্ছন্ন থাকতে বাধ্য। এ রকম নাগরিক সমাজের পক্ষে এ নিয়ে নির্মোহ আলাপ কঠিন। এ বিষয়ে নির্জলা সত্য শুনতেও রাজি হবে না অনেকে।
কিন্তু সমাজের ভেতর থেকে যখন তীব্র কোনো রাজনৈতিক আলাপ মাথাছাড়া দিয়ে ওঠে, সেটা এড়ানো অল্প জনার পক্ষেই সম্ভব। ২৩ মাস আগে ক্ষমতাচ্যুত দলটির ফেরার প্রশ্নও সে রকম—সেটা দল বা ব্যক্তি, যে রূপেই ফেরার চেষ্টা হোক। দিন যত যাবে, পাড়া–মহল্লায় সব বৈঠকখানায় সেই আলাপের আঁচ লাগবে, হয়তো সেটা যাবে ক্যাপিটাল মার্কেট পর্যন্ত। এ রকম অনিবার্য বিতর্কে প্রবেশ না করে উপায় কী! রাজনৈতিক বিবর্তনের বিশৃঙ্খল এক অধ্যায়ে ঢুকে গেছি আমরা, যে অধ্যায়ে সুদূরপ্রসারী নানান অনিশ্চয়তার লক্ষণ আছে।
ফেরার আলাপ, হট্টগোল ও মাঠের গোলকধাঁধা
এ বিষয়ে যেকোনো আলাপের শুরুর প্রশ্ন হতে পারে, যাকে নিয়ে এত আলোচনা-পর্যালোচনা, সেই দল কি আদৌ পুনরায় রাজনীতির মঞ্চে ফিরতে সক্ষম? তার সাংগঠনিক সেই সামর্থ্য কি অবশিষ্ট আছে? কিংবা নৈতিক শক্তি বা আদর্শিক জোর?
সাংগঠনিক শক্তি বোঝার জন্য আমাদের কাছে ভোটের উপাত্ত নেই। দলটির সমর্থক ভিত্তি সম্পর্কে আমরা জানি না। তারা নিজেরা দেড় দশক অবাধ নির্বাচন করতে দেয়নি। সর্বশেষ নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারল না। সুতরাং এই দলের সাংগঠনিক শক্তি সম্পর্কে ধারণা করা একান্তই অনুমাননির্ভর ও ত্রুটিপূর্ণ হতে বাধ্য। গত দুই বছরে তারা বড় আয়তনে কোনো সভা-মিছিলও করে দেখাতে পারেনি। যদি তাদের সে রকম সাংগঠনিক সক্ষমতা থাকত এবং ফেরার মরিয়া চেষ্টা থাকত, তাহলে সে রকম কিছু নিশ্চয়ই ঘটত এবং আমরা দেখতাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হট্টগোল করার ক্ষমতা আর মাঠের রাজনীতিতে প্রভাব দেখাতে পারা ভিন্ন বিষয়। তবে তাদের নেতাদের জানাজাগুলোয় বড় আয়তনে ভিড় হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে ঠাকুরগাঁও—এ রকম সাম্প্রতিক নজির অনেক। তাতে নিশ্চয়ই স্পষ্ট বার্তা আছে।
বাংলায় আদর্শিক সামর্থ্যের পাশাপাশি আবেগের জোরেও যে সংগঠন টিকে যায়, তার নজির ১৯৯১ সালের জাতীয় পার্টি। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেলকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর একই নাগরিক সমাজ তাঁকে তিন মাসের মাথায় পাঁচ আসনে জিতিয়েছিল পার্লামেন্টে।
সদ্য ক্ষমতাচ্যুত দলটি আবেগ কিংবা আদর্শ—কোন জোরে ভরসা করতে চাইছে, সেটা স্পষ্ট নয়। আদর্শিক শক্তি তৈরি হয় সামাজিক চাহিদা ধারণ করতে পারার মধ্য দিয়ে বা কোনো বিশ্বাসযোগ্য উন্নত সমাজ–কল্পনা হাজির করার ভেতর দিয়ে। সে রকম কোনো রাজনৈতিক পণ্য কি আছে তাদের হাতে এ মুহূর্তে? বড় কোনো বিপর্যয়ের পরও কোনো দলের বিকাশ ঘটতে পারে, যদি সমাজের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে ধারণ করে নব–উদ্যোগে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যদি তরুণ-তরুণীদের দলভুক্ত করার মতো চুম্বকতুল্য আদর্শিক আকর্ষণ ক্ষমতা তার কোষাগারে থাকে। চব্বিশে ক্ষমতাচ্যুত দলটি গত দুই বছরে বয়সে নবীনদের আকর্ষণ করার মতো সে রকম কোনো বক্তব্য হাজির করতে পেরেছে কি? তাদের শাসনামলের যেসব ঘটনায় জনগণ বিক্ষুব্ধ ছিল, তার কোনো যৌক্তিক উত্তর দিয়ে জনসন্তুষ্টি আদায় করতে পেরেছে কি তারা? ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির দাসখতে ভরা একটা বাণিজ্যচুক্তি অবশ্য তাদের একটা ষড়যন্ত্রতত্ত্বের কথা বলায় ন্যায্য সুবিধা করে দিয়েছে। তা ছাড়া গত ২৩ থেকে ২৪ মাসের ব্যর্থতা ও বিশ্বাসভঙ্গের যাবতীয় কিছুও তাদের জন্য ভালো রাজনৈতিক পণ্য বটে। ‘সংস্কার’ না করেও চালিয়ে যাওয়ার হিম্মত আরেক দিকে ফেরার হিম্মত বাড়াতে পারে বৈকি। এই দুই ভঙ্গির মাঝ দিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।
পেছনের ইতিহাসও আসছে ‘ফেরা’র আলাপে
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ফিরতে চাওয়াদের বড় হিস্যা আছে। সেটা প্রত্যাবর্তনের জন্য যথেষ্ট ভালো সামাজিক পুঁজি হিসেবে অক্ষত আছে কি না, সে নিয়ে অনেকে সন্দিহান। ৫৫ বছর আগের গৌরব অতিরিক্ত বেচাকেনার ভেতর দিয়ে যথেষ্ট অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছে নিশ্চয়ই। মাঠপর্যায়ের সমাজতথ্য এ–ও বলে, যেকোনো কারণেই হোক, জেন-জিদের মধ্যে একাত্তরের আবেদন বেশ কম, যা ক্ষমতাচ্যুতদের জন্য একটা স্থায়ী বিরূপ আবহাওয়ার বার্তা দেয়। মোটকথা, ঐতিহ্য-আবেগ-আদর্শ-আক্রোশ-লুকোচুরি মিলে মিশ্র এক পরিস্থিতি ওই দিকে।
চলতি পথে হোঁচট খেয়ে ধরাশায়ী হলে পুনরায় হাঁটার আগে পতনের কারণ শনাক্ত করাও আবশ্যক এবং সেটা করতে হবে মাটির দিকে তাকিয়ে, বিজ্ঞানসম্মতভাবে, নির্মোহ মনে। প্রিয় জুতাটা পতনের কারণ হওয়ার পরও পথিক যদি দূরবর্তী কারও কুনজরকে তাঁর দুর্ভাগ্যের কারণ হিসেবে ভাবেন, তবে মুশকিল। চব্বিশের আগের দেড় দশকে শিক্ষাঙ্গনে, প্রশাসনে, অর্থনীতির জগতে, বিদেশনীতিতে, বাক্স্বাধীনতার পরিসরে, জিহ্বার ব্যবহারে জনতার অসন্তুষ্টি ও ক্ষোভের কোনো কারণ ঘটেছিল কি না, সেই সময়ের শাসকদের তার রিপোর্ট কার্ড সংগ্রহের কথা বলছেন অনেকে। কেবল সমর্থকদের মতামতের ভিত্তিতে এ রকম রিপোর্ট কার্ড তৈরি হলে গোলকধাঁধা থেকে মুক্তি পাওয়া দুরূহ। কিন্তু নির্মোহ সোশ্যাল অডিট করার নৈতিক জোর বা মানসিক তাড়না কি সেই শাসকদের মধ্যে আছে? তার কোনো ইঙ্গিত কি পেল বাংলাদেশ?
তবে এ–ও সত্য, বাঙালি বিস্মৃতিপ্রবণ জাতি বলে কথিত আছে। অন্তত রাজনীতি ধর্মের মতো নয় তার কাছে। অতীত ও বর্তমানকে মূল্যায়নের নিজস্ব গতিশীল ধরন আছে তার। যে ‘হক সাহেব’ তাদের প্রাণপ্রিয় ছিল, তাঁকে ১৯৪৬ সালে বর্জন করে মুসলিম লীগকে বুকে টেনে নেয় এ অঞ্চল। আবার আট বছর পর একই লীগকে এমনভাবে বর্জন করে যে ওই দল চিরতরে হারিয়ে যায় বঙ্গের জমিন থেকে। এ রকম উভয় সময়ে নতুন শক্তি ও আহ্বান এসে পুরোনোকে সরিয়েছে। প্রশ্ন হলো, ‘লাল জুলাই’ শেষে সমাজে পছন্দ-অপছন্দের পাটাতন ওই আদলে মোটাদাগে বদলাল কি না?
‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’–এর কথা বলেছিল শাসক দল
চব্বিশ থেকে দক্ষিণপন্থার জোয়ার স্পষ্ট। জনগণের বড় একাংশের পছন্দের ভেতর দিয়েই যদি সেটা ঘটে, দেশ-বিদেশের রাজনীতি তাকে নিজ নিজ প্রয়োজন ও স্বার্থে স্বীকৃতি দেবে, কাছে পেতে চাইবে, ব্যবহার করবে। গণতন্ত্রের নামে কুকীর্তি যদি ‘সমাজে’র অভিমুখ ১৮০ ডিগ্রি পাল্টে দিয়ে থাকে, তাহলে অপরিশোধিত পুরোনো শক্তি কোনো শূন্যতা পূরণ করতে আসবে? কোনো শূন্যতা তাকে ডাকছে?
আবার এ–ও সত্য, দক্ষিণপন্থার উত্থান নিশ্চিতভাবে সমাজে উদারনৈতিক শক্তির রাজনৈতিক চাহিদা তৈরি করবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যেভাবে সিনেমার সামান্য একটা প্রদর্শনী বন্ধ করতে কয়েক গাড়ি পুলিশ পাঠানো হলো, তাতে স্পষ্ট, বিএনপি উদারনৈতিক রাজনীতির ক্ষুধা পূরণ করতে যাচ্ছে না। মধ্যবিত্তের বড় একটা অংশের জন্য এ অবস্থা অস্বস্তি ও হতাশার। আয়তনে ছোট হলেও মতামত গঠনে তাদের প্রভাবশালী একটা ভূমিকা থাকে এ দেশে। তারা এখন রাজনৈতিক-সাংগঠনিক শূন্যতা অনুভব করছে কি না, সেটা অনুসন্ধানের জন্য একটা ভালো বিষয়।
চব্বিশের ক্ষমতাচ্যুতরা যে এ রকম শূন্যতা পূরণ করবে, তেমন নিশ্চিত ভরসাও ইতিহাসের মহাফেজখানায় নেই। বরং তাদের উত্থানচেষ্টা ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে এবং আশপাশে থাকা শক্তিসমূহকে কাছাকাছি নিয়ে আসার দুশ্চিন্তা তৈরি করে। সংঘাতের আবহও তৈরি হবে তাতে। ক্ষমতাচ্যুত দল বা তার যেকোনো নেতা-নেত্রীর ফেরার প্রশ্ন সংগত কারণে সংঘাতের শঙ্কাও বটে। বাংলাদেশের দিকে নেতিবাচক আন্তর্জাতিক মনোযোগও বাড়বে তাতে। আসন্ন এই সংঘাত বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান দ্বন্দ্ব হয়ে উঠবে কি না, সেটাও ভাবাচ্ছে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের। লগ্নিকারীরা সেসব ভেবে এখনো হাত গুটিয়ে আছে।
ওই রকম রাজনৈতিক পরিবেশে এ মুহূর্তের শাসক দল কতটা চালকের আসনে থাকতে পারবে, সেটা অনুমান করা এ মুহূর্তে দুঃসাধ্য। পরাজিতদের ফেরার আলাপ ও উত্তেজনা শাসকদের জন্য ফাঁদও হতে পারে, আবার এটা বারবার বাঘের গল্প শোনানো সেই রাখাল বালকের মতোও হতে পারে।
অর্থনীতির পুনর্গঠন বিলম্বিত হলে
অর্থনীতির পুনর্গঠন বিলম্বিত হলে, বাজেটে করের বোঝা ভারী হলে, জ্বালানির দফায় দফায় দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি অসহনীয় হয়ে উঠলে, বেকারত্ব বাড়ার পুরোনো ধারা না কমলে মানুষের মনোভাব পাল্টেও যেতে পারে। বড় প্রত্যাশা মানে বড় ঝুঁকি। ‘৩৬ জুলাই’ বড় ঝুঁকি তৈরি করে রেখেছে এখনকার শাসকদের জন্য। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সে রকম ব্যবধান বাড়তে থাকলে ক্ষমতাচ্যুতদের তরফ থেকে তার সুযোগ না নেওয়ার কারণ নেই।
এ দেশের মানুষ এখানকার পলিমাটির বৈশিষ্ট্যের মতো। পলিমাটি নদী, বন্যা বা বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বয়ে যায় এবং নতুন ভূমি বা প্লাবনভূমি তৈরি করে। পলিকণায় আঠালো ভাব কম থাকে, এ কারণে বায়ু বা পানির স্রোতে সহজে ক্ষয়ে যায়। আবার ইউরিয়া ও সালফারের অতিরিক্ত ব্যবহারে এ মাটিতে অম্লতাও বেড়েছে। এখানকার রাজনীতি স্থানীয় ভূমির মতোই।
অম্লতা কমাতে ভূমি ব্যবহারকারীদের পুনর্ভাবনা দরকার। ‘অম্লতা’ মাটির মতোই সমাজের অণুজীব মারে, ভারী ধাতু বাড়ায়। বিএনপি তার ৩৯ পৃষ্ঠার নির্বাচনী ইশতেহারের শুরুতেই বলেছিল ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠন করবে। অর্থাৎ রাজনীতির জমিনে নমনীয়তা বাড়ানোর অঙ্গীকার ছিল তাদের। তারেক রহমানের মধ্যপন্থার প্রয়োজনীয় এক উপলব্ধি ছিল সেটা। শাসক দল কি এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগোবে এখন?
অর্থনীতির স্বার্থে রাজনৈতিক সংঘাত এড়ানোর উপায়গুলো খুঁজে দেখা দরকার এবং সেটা সংঘাতের আলামত শুরুর আগে হলেই ভালো। ঐতিহাসিক অবিচারজনিত ট্রমাগুলো থেকে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় উত্তরণ জরুরি বাংলাদেশের।
কিন্তু বেসরকারি একটা সংস্থার হিসাব উদ্ধৃত করে বিভিন্ন মিডিয়া বলছে, মে মাসেও অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হয়েছে ৫৩টি এবং বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসে মারা গেছে ৩২ জন। ট্রমার তাড়া থেকে বাংলাদেশের কি তবে রেহাই নেই? বাংলাদেশ কি বারবার পুরোনো বন্দোবস্তেই ফিরবে?
‘নতুন’দের ভালো পারফরম্যান্স ছাড়া ‘পুরোনো’দের ফেরা বন্ধের উপায় কী! নাগরিকদের দিক থেকে এ মুহূর্তে অসহায়ত্ব বেশ অভিনব। দেশে সহি বিরোধী দলও নেই! দফায় দফায় জ্বালানির দাম বাড়ছে, অথচ চারদিক সুনসান। এ এক অভিনব দুরবস্থা।



