জাপানে ১২০০ বছরের চেরি ফুলের রেকর্ড বাঁচালেন তরুণ গবেষক, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রমাণ সংরক্ষিত
১২০০ বছরের চেরি ফুল রেকর্ড বাঁচালেন তরুণ গবেষক

১২০০ বছরের ঐতিহ্য বাঁচাতে তরুণ গবেষকের অভিযান

জাপানের ওসাকা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইয়াসুয়ুকি আওনোর জীবন ছিল চেরি ফুলের নামে উৎসর্গ করা। বসন্তের ঠিক কোন সময়ে চেরি গাছে ফুল ফুটছে, সেই তারিখের তথ্য সংগ্রহে তিনি তৈরি করেছিলেন বিশ্বের দীর্ঘতম মৌসুমী ট্র্যাকিং রেকর্ড। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট অধ্যাপক আওনোর প্রয়াণে সেই বিশাল কর্মযজ্ঞে ছেদ পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তার রেখে যাওয়া স্প্রেডশিটে ২০২৬ সালের সারিটা ফাঁকা পড়ে ছিল। মনে হচ্ছিলো, হয়তো স্তব্ধ হয়ে যাবে ১২০০ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী গবেষণা।

নতুন দায়িত্বে তরুণ গবেষক

তবে আশার কথা হলো, অধ্যাপক আওনোর কাজ থামতে দেননি এক তরুণ গবেষক। আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটা’র তথ্য বিজ্ঞানী টুনা অ্যাসিসু সম্প্রতি এই দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি জানান, আমি অধ্যাপক আওনোর ব্যবহৃত একই সূত্র ব্যবহার করে এই বছরের চেরি ফুল ফোটার সেরা সময় নির্ণয় করছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তারিখটি নিশ্চিত করা হবে।

মাউন্টেন চেরির অনন্য তথ্যভাণ্ডার

অধ্যাপক আওনো যে বিশেষ প্রজাতির চেরি গাছ ট্র্যাক করতেন, তার নাম মাউন্টেন চেরি বা প্রুনাস জামাসাকুরা। কিয়োটোর আরাশিয়ামা এলাকায় এই গাছগুলোর ওপর তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাতেন। জাপানে চেরি ফুল ট্র্যাকিংয়ের আরও অনেক প্রকল্প থাকলেও সেগুলো মূলত ১৯শ শতকের সোমেই-ইয়োশিনো প্রজাতি নিয়ে কাজ করে। কিন্তু মাউন্টেন চেরির ১২০০ বছরের বেশি সময়ের নিরবচ্ছিন্ন তথ্যভাণ্ডারই আওনোর কাজকে অনন্য করে তুলেছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বোস্টন ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক রিচার্ড প্রাইম্যাক ২০০৬ সালে আওনোর সঙ্গে দেখা করার স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, তিনি কতটা নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন তা বর্ণনা করা কঠিন। অধ্যাপক আওনো শুধু এই তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে পুরনো জাপানি লিপি পড়তে শিখেছিলেন। ধুলোমাখা ঐতিহাসিক আর্কাইভে কিয়োটোর প্রাচীন চেরি উৎসবের উল্লেখ থেকে তিনি নির্দিষ্ট বছরের ফুল ফোটার তারিখ বের করতেন। তার সংগৃহীত সবচেয়ে প্রাচীন তথ্যটি ছিল ৮১২ সালের।

জলবায়ু পরিবর্তনের অকাট্য প্রমাণ

আওনোর এই রেকর্ড থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের একটি অকাট্য চিত্র ফুটে উঠেছে। দেখা গেছে, ২০২১ ও ২০২৩ সালে চেরি ফুল ফোটার সময় ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে আগে। ইবারাকি প্রিফেকচারের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ফরেস্ট প্রোডাক্টস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডেন্ড্রোলজিস্ট তোশিও কাটসুকি বলেন, অ্যাকাডেমিকভাবে একই প্রজাতির বসন্তকালীন ফুল ফোটার এই দীর্ঘ তথ্যসিরিজ অত্যন্ত মূল্যবান।

সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা

নতুন পর্যবেক্ষক টুনা অ্যাসিসু জানান, গত জানুয়ারিতে অধ্যাপক আওনোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবপেজ নিষ্ক্রিয় দেখে তারা তার মৃত্যুর বিষয়টি প্রথম বুঝতে পারেন। তখন জানা গিয়েছিল, কোনও প্রতিষ্ঠান বা গবেষক এই কাজ এগিয়ে নিতে আগ্রহী নন। বসন্ত আসলেও মাউন্টেন চেরির নতুন কোনও তথ্য ছিল না। অ্যাসিসু তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে নতুন পর্যবেক্ষক খুঁজে বের করার অভিযান শুরু করেন। অনেক বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা সফল হওয়ায় তিনি স্বস্তি বোধ করছেন।

১২০০ বছরের সেই রেকর্ড আবার সচল হয়েছে, এর চেয়ে খুশির খবর আর কী হতে পারে! এই গবেষণা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রমাণ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।