বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বিএনপি কমিটি থেকে পদত্যাগ

স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন হাফিজ উদ্দিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরুর সময় তিনি নিজেই এ কথা জানান। এদিন বেলা ১১টায় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন।

নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পদত্যাগ

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "স্পিকার জাতীয় সংসদের একটি নিরপেক্ষ আসন। নিজেকে নিরপেক্ষ রাখতে আমি ইতোমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংসদে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া

এর আগে, সংসদ নেতা তারেক রহমানের অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবে দলের পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সায় দেন। পরে সভাপতি মোশাররফ হোসেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নাম ঘোষণা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বাদশ সংসদের ড. স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর অনুপস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে প্রবীণ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। এই প্রক্রিয়াটি সংসদীয় ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাফিজ উদ্দিনের পূর্বের দায়িত্ব ও পটভূমি

এর আগে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন শপথ নিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, হাফিজ উদ্দিন বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য পাকিস্তান ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ছিলেন, যা তার বহুমুখী দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দেয়।

এই পদত্যাগের মাধ্যমে হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অবস্থান নিশ্চিত করতে চাইছেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সংসদীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।