তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহী-চট্টগ্রামে জামায়াতের বিক্ষোভ
তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

দফায় দফায় তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজশাহী ও চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে বিকালে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির নজরুল ইসলাম বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ বা সংসদীয় কমিটিতে কোনো আলোচনা ছাড়াই বাজেট ঘোষণার পূর্বে সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে একটি খারাপ নজির স্থাপন করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে জনদুর্ভোগ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশেরও বেশি। ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৬.৭ শতাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য প্রায় ১,৯০০ টাকায় পৌঁছানোয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের খেসারত দিতেই বারবার জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা থাকলে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি সরকারের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামাল খান প্রেস ক্লাবে এসে শেষ হয়।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান।

রাজশাহীতে বিক্ষোভ

একই প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরী। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, জনগণ আজ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস উঠছে, সেই সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করে সরকার জনগণের নির্মম খড়গ চালাচ্ছে। যা কখনোই মেনে নেওয়ার মতো নয়।

সরকারে দখল ও দলীয়করণের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা বলেন, সরকার দেশের জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনগুলোতে দলীয় প্রশাসক বসিয়ে জনগণের ওপরে বিএনপির দলীয় নেতাদের চাপিয়ে দিয়েছেন। প্রশাসকরা তারা তাদের দলীয় এজন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো, অর্থিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখলের মহা উৎসব শুরু করছেন। আপনারা যদি ফ্যাসিস্ট হতে চান আপনাদের অবস্থাও ফ্যাসিস্ট হাসিনার মতো হবে। তাই সময় থাকতে সতর্ক হন।

মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমির আবু মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমির ডাক্তার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সহাকরী সেক্রেটারি, অধ্যক্ষ মাহবুবুল আহসান বুলবুল, শাহাদৎ হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার প্রমুখ।