এ বছরের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য 'প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণা। জলবায়ুর জন্য। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য'- বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রাকৃতিক সুরক্ষা
দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের টিকে থাকা অনেকটাই নির্ভর করে উন্নত বিশ্ব কীভাবে জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করে তার ওপর। তবে, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, দুর্যোগ থেকে আমাদের রক্ষাকারী বাস্তুতন্ত্রগুলো কতটা ভালোভাবে আমরা সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার করি, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দশকের পর দশক ধরে, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি ভোগ করছে—সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি উপকূলীয় জমি গ্রাস করছে, লবণাক্ততা উর্বর জমিতে ঢুকে পড়ছে এবং ঘূর্ণিঝড় আগের চেয়ে বেশি ভয়াবহ আকারে সম্প্রদায়গুলোকে আঘাত করছে। এগুলো চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে, এবং তাদের প্রভাব কমানোর সমাধান খুঁজে বের করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।
প্রাকৃতিক সম্পদ: আমাদের সবচেয়ে বড় মিত্র
তবে, এসব চ্যালেঞ্জের মাঝেও আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের সবচেয়ে বড় মিত্র হিসেবে কাজ করেছে—সুন্দরবন ঝড়ের জলোচ্ছ্বাস প্রশমিত করেছে, জলাভূমি বন্যা শোষণ করেছে এবং নদীগুলো জীবিকা টিকিয়ে রেখেছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা এই বাস্তুতন্ত্রগুলোকে প্রায় সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছি। তাদের গুরুত্ব চিনতে না পারা আমাদের শাসনের সবচেয়ে বড় ত্রুটিগুলোর একটি এবং এটির তাৎক্ষণিক সংশোধন প্রয়োজন।
প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের আহ্বান
এ বছরের বৈশ্বিক অভিযান প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে জরুরি জলবায়ু পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ হলো উপকূলীয় বনায়ন সম্প্রসারণ, জলাভূমি পুনরুদ্ধার এবং নদীগুলোকে দূষণ ও দখল থেকে রক্ষা করা।
এর অর্থ হলো নির্গমন কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ পরিবহনে বিনিয়োগ করা, পাশাপাশি অভিযোজন কৌশলগুলোকে সম্প্রদায়ের স্থিতিস্থাপকতার ভিত্তিতে গড়ে তোলা।
বাংলাদেশের করণীয়
এই বিশ্ব পরিবেশ দিবসে, বার্তাটি পরিষ্কার হওয়া উচিত: বাংলাদেশকে নিজেকে রক্ষা করতে প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন এখনও সবচেয়ে বড় অস্তিত্ব সংকট। আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের অর্থনীতি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে আমরা পদক্ষেপ নিই কি না তার ওপর।



