মতিঝিলে রুমমেট হত্যার পর লাশ সাত টুকরো করে গুম, আদালতে দোষ স্বীকার
রুমমেট হত্যার পর লাশ সাত টুকরো করে গুম, আদালতে দোষ স্বীকার

মতিঝিলে রুমমেট হত্যার নৃশংস ঘটনা: আদালতে দোষ স্বীকার

রাজধানীর মতিঝিলে রুমমেট মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর লাশ সাত টুকরো করে গুম করার মর্মান্তিক ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শাহিন আলম আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) পাঁচ দিনের রিমান্ড চলাকালীন শাহিন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হওয়ায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার এসআই মো. শাহরিন হোসেনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শাহিনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।

ঘটনার পটভূমি ও মনোমালিন্য

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ওবায়দুল্লাহ ও শাহিন মতিঝিলের কমলাপুর কবি জসীম উদ্দিন রোডের একটি মেসের চিলেকোঠায় একসঙ্গে থাকতেন। ওবায়দুল্লাহ একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাহিনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের মনোমালিন্য ও ঝগড়া ছিল, যা পরবর্তীতে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যার নৃশংস পদ্ধতি

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতের কোনও এক সময়ে শাহিন ওবায়দুল্লাহকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে সাতটি খণ্ডে বিভক্ত করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসে। ২৮ ফেব্রুয়ারি পল্টন, বায়তুল মোকাররম মসজিদের গেট এবং কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের পাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হাত ও পা উদ্ধার করে পুলিশ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও অভিযুক্তের আটক

বিচ্ছিন্ন হাতের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) যাচাই করে ওবায়দুল্লাহর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর তাদের মেস থেকে রক্তমাখা চাপাতি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে শাহিনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহিন হত্যার কথা স্বীকার করে লাশের বাকি অংশের অবস্থান জানায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল বর্জ্য কেন্দ্র থেকে মাথা এবং সাভারের তুরাগ নদী থেকে শরীরের মূল অংশ উদ্ধার করা হয়।

হত্যা মামলা দায়ের

এই নৃশংস ঘটনায় ওবায়দুল্লাহর বাবা হামিদ মিয়া গত রবিবার মতিঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এখন আদালতে চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্ত শাহিন আলমের দোষ স্বীকারোক্তি তদন্তে নতুন মোড় দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।