জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সম্প্রতি জামায়াতের নেতাদের ‘গুপ্ত’ বলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের দেখবেন গুপ্ত বলা হয়। তাই না? তো আমি বলেছিলাম, গুপ্ত তো অবশ্যই। দেশের ভেতরে গুপ্ত ছিলাম। বাইরে যাইনি। গুপ্ত তো অবশ্যই। তিন বৎসরের মতো জেলে ছিলাম, ওইটা তো গুপ্তই। ওই রকম গুপ্ত থেকে থেকেই তো লড়াই করে এই দেশটা মুক্ত হয়েছে। আমরা ইনশাআল্লাহ এই দেশেই থাকবো। এই দেশে থাকার নাম যদি গুপ্ত হয়, তাহলে অবশ্যই আমি গর্বিত গুপ্ত। দেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নাম যদি বীরত্ব হয়ে থাকে, তাহলে ওই বীরত্বকে ঘৃণা করি। রাজনীতি করতে হলে দেশের মানুষকে ধারণ করতে হবে। সুদিনে যেমন থাকবো, দুর্দিনেও থাকবো। ভবিষ্যতেও দেশ ছেড়ে পালাবো না।’
সিলেটে সুধী সমাবেশে বক্তব্য
মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যায় সিলেট নগরের পূর্ব শাহি ঈদগাহ এলাকার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জামায়াতের মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে জামায়াতের আমির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও গণনা ও ফলাফল সঠিক হয়নি বলে অভিযোগ করেন।
নির্বাচন ও গণভোটের রায় প্রসঙ্গে
তিনি বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। গণনা এবং রেজাল্ট—দুটা দুষ্টু হয়েছে। অনেকেই এখন সত্য কথাটা বিভিন্ন কায়দায় বলে ফেলছেন। সত্য চাপা পড়ে না। একসময় বের হয়ে আসে। আমাদের লোকে আফসোস করে নির্বাচনের পরপর বলতেন, “আমরা এত ভোট দিলাম, আপনারা ভোটগুলা ঘরে উঠাইতে পারলেন না।” ট্রু। জনগণ তো দিয়েছে আমাদের। এর প্রমাণ হচ্ছে গণভোটের রায়।’
গণভোটের রায়কে সম্মান দিয়ে বিএনপির শপথ না নেওয়ার সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা দেশের ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করার মাধ্যমে দুইটা জিনিসকে অপমান করেছেন। একটা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে অপমান করেছেন। আরেকটা জনগণকে অপমান করেছেন। মনে রাখবেন, অপমানের প্রতিশোধ জনগণ নিয়েই ছাড়ে। কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলে না। আমরা ছাড়বো না। সংসদের ভেতরে দুই-তৃতীয়াংশের উনাদের যে শক্তি আছে, সেই শক্তির বলে এটাকে ধামাচাপা দিয়েছেন; কিন্তু এটা ছাইচাপা আগুন হয়ে একসময় আগ্নেয়গিরির রূপ নেবে।’
সমাবেশের অন্যান্য বক্তা
মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও জেলা আমির হাবিবুর রহমান প্রমুখ।



