ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির বাম ও শ্রমিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন মরক্কো বংশোদ্ভূত ফরাসি রেলশ্রমিক সংগঠক আনাস কা-জিব। তিনি ফ্রান্সের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। কা-জিব ট্রটস্কিস্ট রাজনৈতিক সংগঠন 'রেভল্যুশিওঁ পারমানঁত' এর হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
শ্রমিক ও অভিবাসীদের প্রতিনিধি
সোমবার (১ জুন) এক ভিডিও বার্তায় কা-জিব বলেন, তার প্রার্থিতা হবে শ্রমিক শ্রেণি, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। তিনি একটি ন্যায্য, সমতাভিত্তিক ও শ্রমিকবান্ধব সমাজ গঠনের আহ্বান জানান। ৩৯ বছর বয়সি এই শ্রমিক নেতা দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সের রেলখাতে কাজ করছেন এবং শ্রমিক ইউনিয়ন সুড রেল (Sud Rail)-এর সক্রিয় সদস্য। তিনি মরক্কো বংশোদ্ভূত অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপটে পরিচিত।
গণমাধ্যমে পরিচিতি
শ্রমিক আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি ফরাসি গণমাধ্যমেও পরিচিত মুখ। জনপ্রিয় টেলিভিশন ও রেডিও টকশো 'লে গ্রঁদ গ্যুল'-এ অংশ নিয়ে তিনি সামাজিক বৈষম্য, শ্রমিক অধিকার এবং জনজীবনের বিভিন্ন ইস্যুতে নিয়মিত মতামত দেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি বর্ণবাদবিরোধী, উপনিবেশবাদবিরোধী এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অবস্থানকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকারের পক্ষে কথা বলে আসছেন।
পূর্বের প্রচেষ্টা ও বর্তমান সম্ভাবনা
এর আগে ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলেও প্রয়োজনীয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন (পারঁনাজ) না পাওয়ায় তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। তবে এবার তার সংগঠন দাবি করছে, তারা আগের তুলনায় বেশি স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধির সমর্থন অর্জন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সের বাম রাজনৈতিক পরিসর বর্তমানে বিভক্ত হলেও শ্রমিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ইস্যুগুলো নতুন করে আলোচনায় আসছে, যেখানে কা-জিবের প্রার্থীতা একটি নতুন রাজনৈতিক বার্তা যোগ করেছে।
এছাড়া তার এই প্রার্থিতা ফ্রান্সের শ্রমিক রাজনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অভিবাসী ও মুসলিম কমিউনিটিতে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। ফ্রান্সের প্রথম মুসলিম প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আনাস কা-জিবের এই উদ্যোগ দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।



