জেঁকে বসছে গরম। প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে দাবদাহের পারদ। হাঁসফাঁস অবস্থা। কয়েক দিনের মধ্যে গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। জুনে ভ্যাপসা গরমের প্রভাব পড়বে। তাই বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৩টার মধ্যে সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় বাইরে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস বা টুপি ব্যবহার করুন। বাড়িতে থাকলেও সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন। বাড়ির বাইরে বের হলে কমপক্ষে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
ত্বকের যত্ন
ত্বক স্বাভাবিক হলে যে কোনো ধরনের সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। তৈলাক্ত ও স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য জেল, স্প্রে ও স্টিক সানস্ক্রিন ভালো। গরমে ত্বক ঠান্ডা রাখতে বরফের টুকরো ঘষতে পারেন। শসার স্লাইস চোখের পাতায় লাগিয়েও বিশ্রাম নিতে পারেন।
শরীর ঠান্ডা রাখার উপায়
কাঠফাটা রোদে ফ্যানের তলায় থেকেও স্বস্তি নেই। এসির হাওয়া সাময়িক আরাম দিলেও কতক্ষণ! কাজের প্রয়োজনে বাইরে বের হতেই হয়। গলদঘর্ম হয়ে বাড়ি ফিরে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান বা সঙ্গে সঙ্গে স্নান করলে শরীরের বারোটা বাজতে সময় লাগে না। বরং শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখুন। গরমকালে কিছু বিষয় মেনে চললেই সুস্থ থাকবেন।
পানি ও তরল পান
প্রচুর পানি ও তরলজাতীয় পান করুন। হালকা ও সুতির পোশাক পরুন। সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন। হিটস্ট্রোকসহ অন্যান্য রোগবালাই থেকে মুক্ত থাকুন।
সতর্কতা
খুব গরম থেকে এসে এসিতে ঢুকলে বা বরফ ঠান্ডা পানি খেলে সর্দি-কাশি হতে পারে। তাই এ অভ্যাস ত্যাগ করুন। ঘন ঘন স্নান করলে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে। এর বদলে কখনো কখনো কোল্ড ফুট বাথ নিন। একটি বড় গামলায় ঠান্ডা পানিতে বরফের টুকরো দিন। খানিক সময় পা ডুবিয়ে বসে থাকুন। চাইলে পানিতে কয়েক ফোঁটা পিপারমিন্ট অ্যাসেন্সিয়াল অয়েল যোগ করুন।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
গরমে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বাড়তে পারে। বাইরে থেকে এসে হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস করুন। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, তাই দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে ক্লান্তি কম হয় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে।
পোশাক ও খাদ্য
হালকা ও সুতি আরামদায়ক পোশাক পরুন। আঁটসাঁট পোশাক না পরাই ভালো। গাঢ় রঙের বদলে হালকা রঙের পোশাক শরীর ঠান্ডা রাখে। ঝাল, তেল, মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। খাদ্যতালিকায় এমন ফল বা সবজি রাখুন যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। তরমুজ, শসা, জামরুল, পটোল, ঝিঙের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল বা সবজি বেশি করে খান।
টকদই
টকদই দারুণ স্বাস্থ্যকর এবং শরীর ঠান্ডা রাখে। দইয়ের শরবত, দইভাত, দইয়ের রায়তা যেভাবে হোক দই খাওয়া চাই। দই চিঁড়ে, খইদইয়ের মতো খাবারও খেতে পারেন।
ঘুম ও ব্যায়াম
শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। গরমের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, তাই ঘরকে ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখার চেষ্টা করুন। গরমের কারণে অনেকে নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, যা ক্ষতিকর। সকালে বা সন্ধ্যায় হালকা ব্যায়াম, হাঁটা বা যোগব্যায়াম করুন। এতে শরীর চাঙা থাকবে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।



