যশোরের বেনাপোল সীমান্তে অবৈধ পুশইনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তের শূন্যরেখায় গত তিন দিন ধরে বেশ কয়েকজন মানুষ আটকে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবির বক্তব্য
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণে তাদের শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখা হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঝোপঝাড়ের মধ্যে অবস্থান করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
তবে আটকে থাকা ব্যক্তিরা বাংলাদেশি নাগরিক—এমন কোনও গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র বা তথ্য না পাওয়ায় তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে বাহিনীটি।
ঘটনার বিবরণ
এর আগে গত রবিবার গভীর রাতে বেনাপোল সাদিপুর সীমান্তের ওপারে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় রাতের আঁধারে তিনটি ট্রাকে করে দেড় শতাধিক মানুষকে জড়ো করে বিএসএফ। এরপর সীমান্তের আলো নিভিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ১৫ জনকে শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠানো হয়। এ সময় যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের টহল দল তাদের আটকে দেয়। ঘটনার পর থেকে সীমান্তে এ পরিস্থিতি চলমান রয়েছে।
বর্তমানে সীমান্তের ভারতীয় অংশে আরও শতাধিক মানুষকে অবস্থান করিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
বিজিবির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
এদিকে অবৈধ পুশইনের আশঙ্কায় বেনাপোল সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বিজিবি। সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, রাতের টহল বৃদ্ধি এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাহিনীটি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও।
এনসিপির সমন্বয়কের সফর
এদিকে, সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বুধবার (৩ জুন) বেনাপোল আসছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন করবেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
বিজিবি অধিনায়কের বক্তব্য
বিজিবির যশোর-৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, বিএসএফ যদি প্রচলিত নিয়ম ও দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাউকে ফেরত পাঠায়, তাহলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের গ্রহণ করা হবে। কোনও নিয়মনীতি না মেনে জোরপূর্বক কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মানবিক সহায়তার দাবি
শার্শা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান লিটু সীমান্তে আটকে থাকা ব্যক্তিদের মানবিক সহায়তা ও দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই করে সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।



