ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে: মার্চ থেকে এপ্রিলে ৪০ পয়সা বেড়েছে প্রতি ডলারের দাম
ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে: ৪০ পয়সা বেড়েছে দাম

ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে: মার্চ থেকে এপ্রিলে ৪০ পয়সা বেড়েছে প্রতি ডলারের দাম

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরু থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত টাকার মান ধারাবাহিকভাবে কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সময়ের মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার হার প্রায় ৪০ পয়সা বেড়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় এখন একই পরিমাণ ডলার কিনতে বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে, যা অর্থনীতিতে টাকার কিছুটা দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে কী দেখা যাচ্ছে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ মার্চ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা হয়েছিল প্রতি ডলারে ১২২.৩০ টাকা হারে। ওই দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ২৫ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছিল। তখন বৈদেশিক মুদ্রার বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল এবং ডলারের ওপর কোনো বড় চাপ পরিলক্ষিত হয়নি।

অন্যদিকে, গত ১৬ এপ্রিল শেষ আন্তঃব্যাংক লেনদেনে প্রতি মার্কিন ডলারের হার দাঁড়িয়েছে ১২২.৭০ টাকায়। এই হার আগের তুলনায় বেশি, যা টাকার মান কিছুটা হ্রাসের নির্দেশক। দুই সময়ের তুলনা করলে দেখা যায়, মাত্র দেড় মাসের মধ্যে প্রতি ডলারে টাকার হার প্রায় ৪০ পয়সা বেড়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কেন কমছে টাকার মান?

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিবর্তন আকস্মিক নয়; বরং বাজারে একসাথে কাজ করা কয়েকটি চাপের ফলাফল এটি। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমদানি ব্যয়ের চাপ, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের প্রয়োজন, জ্বালানি ও ভোগ্যপণ্য আমদানির খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি। এসব কারণে ডলারের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে, যার ফলে টাকার মান তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে পুরো পরিস্থিতি একপেশে নয়। প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে বড় অস্থিরতা থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করে, বিশেষ করে প্রবাসীদের পাঠানো আয় স্থিতিশীল থাকায় ডলারের দাম দ্রুতগতিতে বাড়েনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি বাজারে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। প্রয়োজনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে বা বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মুদ্রার বিনিময় হার রাখার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে যদিও বড় কোনো লাফ নেই, তবুও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধীরে ধীরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান প্রবণতা উদ্বেগজনক নয়, কিন্তু এটি একটি সতর্ক সংকেত। যদি মুদ্রার মান ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তাহলে আমদানি ব্যয় বাড়বে, যা ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, যদি রপ্তানি আয় এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ শক্তিশালী থাকে, তাহলে এই চাপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অন্যথায়, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আরও ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, গত দেড় মাসে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে টাকার মান ধীরে ধীরে কমেছে এবং ডলার তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়েছে—যা অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নীতিনির্ধারকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন যাতে মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকে।