১৫ এপ্রিল ২০২৬-এ মুদ্রা বিনিময় হার: প্রবাসী অর্থনীতির চাবিকাঠি
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা কোটি বাংলাদেশির কঠোর পরিশ্রমের ফসল এই অর্থ দেশের উন্নয়নের চাকা সচল রাখছে। এই প্রেক্ষাপটে, আজকের (১৫ এপ্রিল ২০২৬) মুদ্রার বিনিময় হার প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি তথ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, বৃহস্পতিবার দেশের মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের কেনার দাম এবং বিক্রির দাম উভয়ই নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২.৭০ টাকা। এর অর্থ হলো, ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭০ পয়সা হিসেবে স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে, ইউরো মুদ্রার ক্ষেত্রে কেনার দাম ধরা হয়েছে ১৪৪ টাকা ৭২ পয়সা এবং বিক্রির দাম ১৪৪ টাকা ৭৪ পয়সা। এই হারগুলি প্রবাসীদের লেনদেন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বিভিন্ন মুদ্রার বিস্তারিত বিনিময় হার
নিচের তালিকায় ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের জন্য বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার কেনা ও বিক্রির হার উল্লেখ করা হলো:
- ইউএস ডলার: ক্রয় ১২২.৭০ টাকা, বিক্রয় ১২২.৭০ টাকা
- পাউন্ড স্টার্লিং: ক্রয় ১৬৬.৪৩ টাকা, বিক্রয় ১৬৬.৫০ টাকা
- ইউরো: ক্রয় ১৪৪.৭২ টাকা, বিক্রয় ১৪৪.৭৪ টাকা
- জাপানি ইয়েন: ক্রয় ০.৭৭ টাকা, বিক্রয় ০.৭৬৭ টাকা
- অস্ট্রেলিয়ান ডলার: ক্রয় ৮৭.৩৯ টাকা, বিক্রয় ৮৭.৪৩ টাকা
- সিঙ্গাপুর ডলার: ক্রয় ৯৬.৪৬ টাকা, বিক্রয় ৯৬.৫২ টাকা
- কানাডিয়ান ডলার: ক্রয় ৮৯.১৩ টাকা, বিক্রয় ৮৯.১৭ টাকা
- ইন্ডিয়ান রুপি: ক্রয় ১.৩১ টাকা, বিক্রয় ১.৩১ টাকা
- সৌদি রিয়েল: ক্রয় ৩২.৭৯ টাকা, বিক্রয় ৩২.৭৯ টাকা
এই হারগুলি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বাজার চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে। তবে, মুদ্রা বাজারের গতিশীলতার কারণে এই বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছেন।
প্রবাসী অর্থনীতির প্রভাব
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের অবদান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হওয়ায়, মুদ্রার বিনিময় হার এখন আর শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি সূচক। প্রবাসীরা তাদের আয় দেশে পাঠানোর সময় এই হারগুলি বিবেচনা করে লেনদেন করেন, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে ত্বরান্বিত করে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের মুদ্রা বাজার বেশ স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে, যদিও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মুখে কিছু ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। আজকের এই হারগুলি সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন বলে অর্থনীতিবিদরা মত প্রকাশ করেছেন।



