মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় বিকল্প শ্রমবাজার সন্ধানে সরকারের পরিকল্পনা
ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে বিকল্প নতুন শ্রম বাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন ও উত্তর পর্বে সাংসদ মো. আশরাফ উদ্দিনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।
ইউরোপ ও অন্যান্য দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন সার্বিয়া, গ্রীস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়ায় বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে শ্রমবাজার অনুসন্ধানপূর্বক বাংলাদেশি কর্মীর পেশাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, মালয়েশিয়া শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের জন্য কাজ চলছে। থাইল্যান্ডে শ্রম বাজার খোলার বিষয়ে সে দেশে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের সুপারিশ মোতাবেক প্রয়োজন অনুসারে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট বা বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাপানে ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ
জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সে দেশে কর্মী প্রেরণের হার বৃদ্ধির জন্য জাপানিজ ভাষা ও স্কিল ট্রেনিং-এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ৫৩টি টিটিসিতে জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া, জাপানিজসহ রাশিয়া, আরবি, জার্মান, ইতালিয়ান ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে, বিভিন্ন ভাষার ৪১ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে সরকারের বৈশ্বিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



