এনসিপির জোট সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন তথ্য
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনের অনেক আগেই জোটবদ্ধভাবে ভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে দাবি করেছেন দলটির সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন। সোমবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। তবে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের পক্ষে ছিলেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জোট নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতভেদ
মুশফিক দাবি করেন, মিডিয়ায় যা-ই বলা হোক না কেন, এনসিপির বড় নেতারা অনেক আগেই মনস্থির করেছিলেন যে নির্বাচন তারা জোটবদ্ধভাবেই করবেন। কিন্তু কার সঙ্গে জোট হবে তা নিয়ে সবাই একমত হতে পারছিলেন না। নির্বাচনের আগে সর্বশেষ ইসি মিটিংয়ের আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে যতোগুলো ইসি বা জেনারেল মিটিং হয়েছে, প্রতিটাতেই এককভাবে বা বিএনপি-জামায়াতের বাইরে তৃতীয় জোট গঠন করে নির্বাচন করার পক্ষে মত বেশি ছিল।
জুলাই সনদ গেজেটের রাতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই সনদের গেজেট প্রকাশের দিন রাতে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মূল দল, ছাত্র ও যুব সংগঠনের নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন। সেখানে উপস্থিত অধিকাংশ সদস্য এককভাবে বা তৃতীয় জোটের মাধ্যমে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গে জোটের পক্ষে আটজন এবং জামায়াতের সঙ্গে জোটের পক্ষে সাতজন মত দেন।
জামায়াতের সঙ্গে জোটের পক্ষে যুক্তি
মুশফিক আরও দাবি করেন, মিটিংয়ের পর দলের কিছু নেতা বিভিন্ন সদস্যকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে এককভাবে নির্বাচন করলে কেবল কয়েকজন প্রার্থীই বিজয়ী হতে পারবেন। তাদের যুক্তি ছিল, একক নির্বাচনে শুধু হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তাসনিম জারা জিতবেন, কারণ জামাত তাদের সাংগঠনিকভাবে ব্যাকআপ দেবে। তাই জামাতের হাতে দল চলে যাওয়া ঠেকাতে জোটবদ্ধ হয়েই নির্বাচন করা লাগবে। বিএনপির সঙ্গে জোট সম্ভব নয় বলে তারা জামায়াতের সঙ্গে জোটের পক্ষে যুক্তি দেন।
দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির অবস্থান
মুশফিক উস সালেহীন যে দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জামায়াতের সঙ্গে জোটের পক্ষে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন, তারা হলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। এর মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর গত ২৯ ডিসেম্বর এনসিপিতে যোগ দেন। আর মাহফুজ আলম এনসিপিতে যোগ না দিয়ে অলটারনেটিভস নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়েছেন।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অবিশ্বাস
পোস্টের শেষদিকে মুশফিক বলেন, এনসিপির ভেতরে পারস্পরিক অবিশ্বাসের সংস্কৃতি রয়েছে এবং দলটির বিভিন্ন স্তরে বিভক্তি ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। এমনকি নেতৃত্ব পর্যায়েও একাধিক গ্রুপ সক্রিয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, জুলাই পদযাত্রায় মঞ্চে ওঠা, বক্তৃতা দেওয়া, হাততালি-স্লোগান পাওয়া নিয়ে একেকজনের হীনম্মন্যতা ও ঈর্ষা দেখা গেছে।



