সুনামগঞ্জ পৌর শহরের একটি পানি সরবরাহকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ছয় শতাধিক গ্রাহক গতকাল সোমবার সকাল থেকে পানি পাচ্ছেন না। পৌরসভা পানি সরবরাহ করতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব গ্রাহক। অনেকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গ্রাহকদের দুর্ভোগ
গ্রাহকেরা জানিয়েছেন, ঈদের পরদিন থেকেই পানি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। গতকাল থেকে একেবারেই পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।
শোধনাগারের অবস্থান
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের কাজীর পয়েন্ট এলাকায় পৌরসভার পানি সরবরাহের মূল শোধনাগার অবস্থিত। একসময় এখান থেকেই শহরের গ্রাহকদের পানি সরবরাহ করা হতো। কয়েক বছর আগে শহরের হাছননগর এলাকায় আরেকটি পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটি থেকেও শহরের বেশ কিছু এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা
শহরে পৌরসভার সরবরাহ করা পানির গ্রাহক আছেন প্রায় দুই হাজার। সকাল ও বিকেলে দুই বেলা এসব গ্রাহককে পানি দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ গ্রাহক হাছননগরের ট্যাংকি থেকে পানি পান। গতকাল সকালে হাছননগর এলাকার পানির ট্যাংকির মোটরে ত্রুটি দেখা দেয়। মোটরটির ভেতরের কয়েল জ্বলে যায়। এরপর সেখান থেকে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে শহরের হাছননগর, উপত্যকা, উকিলপাড়া, জেল রোড, কালীবাড়ি, রায়পাড়া, সোমপাড়া, মধ্যবাজার, নতুনপাড়া (আংশিক), পশ্চিমবাজার ও বাঁধনপাড়া এলাকার গ্রাহকেরা পানি পাচ্ছেন না।
নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া
উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল হাসান বলেন, ‘ঈদের পরের দিন থেকে পানি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। পৌরসভা কোনো কিছু জানায়নি। গতকাল বিকেলে একটা মাইকিং হয়েছে। এই মাইকও নষ্ট ছিল, কিছু বোঝা যায়নি। এখন একেবারে পানি নাই। শুনেছি মোটর নষ্ট হয়েছে। পানি জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, এটাতে বিকল্প ব্যবস্থা বা মোটর রাখা উচিত ছিল।’ একই এলাকার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ এষ বলেন, নাগরিক সুবিধার মধ্যে একটি হলো বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ। কিন্তু দুঃখের বিষয় কিছুদিন যাবৎ পৌর কর্তৃপক্ষ এই নাগরিক সেবা ঠিকমতো দিতে পারছে না। পানি সরবরাহে সমস্যা হলে আগে পৌর কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে জানিয়ে দিত। এখন সেটাও ঠিকমতো হয় না।
আইনজীবীর অভিযোগ
হাছননগর এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী আবদুর রায়হান বলেন, ‘পানি না পাওয়ায় বড় সমস্যায় পড়েছি। খাবার পানি কিনে আনতে হচ্ছে। গোসল, গৃহস্থালি কাজে তো ভোগান্তির শেষ নেই।’
সনাক সভাপতির বক্তব্য
শহরের মেজর ইকবাল রোডের বাসিন্দা ও সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি কানিজ সুলতানা বলেন, পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় কী যে ভোগান্তি হচ্ছে, সেটি বলে বোঝানো যাবে না। কয়েক দিন পরপরই এই সমস্যা হয়। বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। ত্রুটি দেখা দিতেই পারে, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে। সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকদের সেটি জানানো উচিত।
পৌরসভার ব্যাখ্যা
পৌরসভার পানি সরবরাহ শাখার তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) অদ্রি রায় বলেন, গতকাল সকালে তাঁরা কিছু গ্রাহককে পানি সরবরাহ করেছিলেন। এরপরই মোটরে ত্রুটি দেখা দেয়, ভেতরের কয়েল জ্বলে গেছে। সেটি মেরামতের কাজ চলছে। বিকল্প আরেকটি মোটর ছিল। কিন্তু ঈদের পরদিন একটি নষ্ট হওয়ায় আরেকটি লাগানো হয়। পরে সেটিতেও ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
মেরামতের অগ্রগতি
সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালীকৃষ্ণ পাল বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। কাজ চলছে। আশা করছি, কাল (আজ মঙ্গলবার) বিকেলে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।’



