বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদকে মঙ্গলবার ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কড়ালিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজার নামাজ শেষে তাকে সমাহিত করা হয়।
শেষ জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ
জোহরের নামাজের পর ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তার সর্বশেষ জানাজা। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। তার শ্যালক আলমগীর তালুকদার জানান, মঙ্গলবার সকালে হেলিকপ্টারে করে তোফায়েল আহমদের মরদেহ ভোলায় আনা হয়।
“জোহরের নামাজের পর ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাকে তার পৈতৃক গ্রাম কড়ালিয়ায় মা-বাবার পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তিনি তার ইচ্ছানুযায়ী পিতা ও মাতার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন,” বলেন তালুকদার।
জনতার শেষ শ্রদ্ধা
দুপুর থেকেই বিদ্যালয় মাঠে মানুষ জড়ো হতে শুরু করে। অনেকে তোফায়েল আহমদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন স্মরণ করেন এবং ভোলার উন্নয়নে তার অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। স্থানীয়রা জেলার প্রতি তার গভীর অনুরাগ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগে তার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোলা সদরের এক বাসিন্দা বলেন, তোফায়েল আহমদ সর্বদা ভোলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জেলার উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিতে উৎসাহিত করতেন। “মৃত্যুর আগে তিনি গ্রামের বাড়িতে মা-বাবার পাশে দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই শেষ ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছে,” বলেন ওই বাসিন্দা।
জানাজায় অংশ নেন ভোলা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রুবেল। তিনি বলেন, সংগঠনের সদস্যরা জানাজা শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছেন।
প্রথম জানাজা ধানমন্ডিতে
সোমবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমদের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। তিনি সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বয়সজনিত নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন ভুগছিলেন তিনি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর গুরুতর অবস্থায় স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। হাসপাতালে ভর্তির দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লেও পরে চিকিৎসকরা তা অস্বীকার করে তার অবস্থা স্পষ্ট করেন।
রাজনৈতিক জীবন ও ব্যক্তিগত পরিচিতি
তোফায়েল আহমদ বাংলাদেশের সংসদে নয়বার সদস্য নির্বাচিত হন, সর্বশেষ ভোলা-১ আসন থেকে। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যও ছিলেন। ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পিতার নাম মৌলভী আজহার আলী ও মাতা ফাতেমা বেগম। তিনি একমাত্র কন্যা ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুনিকে রেখে গেছেন।



