এআই অবকাঠামোয় ৮০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা অ্যালফাবেটের
এআই অবকাঠামোয় ৮০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা অ্যালফাবেটের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে ঘিরে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের বাজার দখলে বিপুল বিনিয়োগে নেমেছে। এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে এবার বড় ধরনের অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।

অর্থ সংগ্রহের বিবরণ

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য ৮০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে এই অর্থ তোলা হবে। পরে তা এআই সংশ্লিষ্ট ডেটা সেন্টার, কম্পিউটিং সক্ষমতা এবং অন্যান্য করপোরেট খাতে ব্যয় করা হবে। অ্যালফাবেট এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের এআই সেবা ও সমাধানের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ব্যক্তি ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান— সবখানেই চাহিদা বর্তমান সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ কারণেই অবকাঠামো সম্প্রসারণকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের অংশগ্রহণ

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করা হবে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের কাছে। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে ছিলেন কিংবদন্তি বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের এই অংশগ্রহণ অ্যালফাবেটের এআই-কেন্দ্রিক পরিকল্পনার প্রতি বাজারের আস্থারই প্রতিফলন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এআই প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে। চ্যাটবট, সার্চ, কনটেন্ট তৈরি, সফটওয়্যার উন্নয়ন থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক বিশ্লেষণ— প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার ও নির্ভরতা। গত মাসে অনুষ্ঠিত গুগলের বার্ষিক সম্মেলনে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই জানান, চলতি বছরে মূলধনি ব্যয় (ক্যাপেক্স) বাবদ ১৮০ থেকে ১৯০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এর একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে এআই অবকাঠামো নির্মাণ ও সম্প্রসারণে।

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা

শুধু গুগল নয়, বিশ্বের প্রায় সব বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানই এখন এআই সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। প্রযুক্তি শিল্পে শুরু হয়েছে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির এক নতুন প্রতিযোগিতা। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত এআই–সম্পর্কিত মূলধনি ব্যয় করতে পারে। এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হবে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপ কেনা এবং ক্লাউড অবকাঠামো সম্প্রসারণে।

দীর্ঘমেয়াদি কৌশল

অ্যালফাবেট বলছে, শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান বজায় রেখেই তারা বিনিয়োগ বাড়াতে চায়। নতুন অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যও সেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই–নির্ভর সেবার চাহিদা আগামী কয়েক বছরে আরও দ্রুত বাড়বে। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত চাহিদা পূরণে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে গুগল।

প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠছে, অ্যালফাবেটের নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত। এআই সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় শক্তিশালী অবকাঠামো নির্মাণ এখন প্রযুক্তি জায়ান্টদের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। ৮০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের এই উদ্যোগ শুধু অ্যালফাবেটের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই তুলে ধরে না, বরং বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতা আগামী বছরগুলোতে আরও তীব্র হওয়ারও ইঙ্গিত দেয়।