৩১ মার্চের পর আয়কর রিটার্ন জমা: অনলাইনে সময় বাড়ানোর সহজ পদ্ধতি
এ বছর কয়েক দফায় আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হলেও ৩১ মার্চ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য এটি শেষ হচ্ছে। তবে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতাদের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে। যদি কোনো কারণে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে না পারেন, তাহলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এবার অনলাইনে আবেদন করে সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
অনলাইনে সময় বৃদ্ধির আবেদন প্রক্রিয়া
রিটার্ন জমার জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন এবং অতিরিক্ত সময়ের অনুমোদনের কাজটি সহজ করতে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। করদাতারা এখন সহজেই এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে ‘টাইম এক্সটেনশন’ মেনু ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন।
অনলাইনে জমা দেওয়া করদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনার অনলাইনেই আবেদন অনুমোদন অথবা নামঞ্জুর করবেন। করদাতার সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর হলে বর্ধিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর প্রদান ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
কী কী শর্ত পালন করতে হবে?
অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে করদাতাদের ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন থাকতে হবে। ৩১ মার্চের আগে আবেদন করা বাধ্যতামূলক। যেসব করদাতার জন্য অনলাইন রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক নয়, তাঁরা অনলাইনে অথবা সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলে লিখিতভাবে উভয় পদ্ধতিতেই সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন।
কত দিন অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে?
ব্যক্তি করদাতারা ৩১ মার্চের আগে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার রিটার্ন জমার জন্য অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত সময় বাড়াতে পারেন। এই সুবিধা করদাতাদের জন্য একটি বড় রিলিফ হিসেবে কাজ করছে, বিশেষ করে যারা বিভিন্ন কারণে সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে পারছেন না।
বর্তমান পরিসংখ্যান ও বাধ্যতামূলক নিয়ম
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ৪১ লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই-রিটার্ন সিস্টেমে প্রায় ৫০ লাখ করদাতা নিবন্ধন নিয়েছেন। বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের মতো কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন।
৩১ মার্চ পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা তাদের সারা বছরের আয়-ব্যয়ের খরচ জানিয়ে আয়কর রিটার্ন দিতে পারবেন। চলতি বছরে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সব করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই নিয়ম মেনে চললে করদাতারা সহজেই তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।



