ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে কঠোর অবস্থান, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে অগ্রগতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনোভাবেই ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে ১০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
বুধবার (১ এপ্রিল) মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে সৃষ্ট ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নিয়ে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। সভায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়:
- জ্বালানি সংকট ও দাম বৃদ্ধি
- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থা
- নীতি সহায়তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশল
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও প্রবাসী আয়ের ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবে এবার ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসেন গভর্নর।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পদক্ষেপ
গভর্নর জানান, বৈদেশিক ঋণের সহায়তায় ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি নিম্নলিখিত খাতগুলোতে জোর দেওয়া হচ্ছে:
- ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএসএমই) খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
- রিজার্ভ ধরে রেখে আমদানি চাপ সামাল দিতে কৃষিখাতে মনোযোগ
দীর্ঘ প্রায় দেড় ঘণ্টার আলোচনায় ব্যাংক খাতে আস্থার সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, দেশের সম্পদ লুট করে কেউ বিদেশে ভোগবিলাস করবে—এটি আর হতে দেওয়া হবে না। এ লক্ষ্যে চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া
এছাড়া ৫টি ব্যাংক ও ১০টি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের অর্থ দ্রুত ফেরত দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান গভর্নর। তিনি ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



