জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নতুন কমিটির সভায় ক্রিকেটারদের জন্য সুখবর
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গতকাল ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করেছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর আজ বুধবার নতুন কমিটির সদস্যরা তাদের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত করেন, যেখানে নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের ঘরোয়া লিগে ম্যাচ ফি এবং মাসিক বেতন বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিতে বড় পরিবর্তন
সভা শেষে সভাপতি তামিম ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, "আজকে কয়েকটা জিনিস দেখে আমি খুবই অবাক হয়েছি। আমাদের নারী ক্রিকেটার যারা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন, তাদের ম্যাচ ফি সম্পর্কে আপনাদের ধারণা আছে? আমি জানি না আপনারা জানেন কি না। এটা একটা সময় ১ হাজার টাকা ছিল। তারপর এটাকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় এটা কোনোভাবেই ঠিক না।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আজকে আমরা যেটা অনুমোদন দিয়েছি আমি বলব না, এটা খুব ভালো। কিন্তু এটা তুলনামূলক ভালো। কারণ সবকিছু বাড়ানোর একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এখন থেকে তারা টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ১০ হাজার টাকা, ওয়ানডের জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং লঙ্গার ভার্সনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে ম্যাচ ফি পাবেন।"
পুরুষ ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বৃদ্ধি
এছাড়া লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেটের জন্য পুরুষরা এখন থেকে ১ লাখ টাকা করে ম্যাচ ফি পাবেন, যা আগে ছিল ৭০ হাজার টাকা। এই পরিবর্তনটি পুরুষ ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাসিক বেতনে উল্লেখযোগ্য সংশোধন
নারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে, চুক্তির তালিকায় থাকা ৩০-৩৫ জন ক্রিকেটারের মাসিক বেতন আগে ৩০ হাজার টাকা ছিল, যা বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। তামিম ইকবাল এ বিষয়ে বলেন, "আমরা আজকে যেটা অনুমোদন দিয়েছি। এখন থেকে 'এ' ক্যাটাগরি ৬৫ হাজার, 'বি' ক্যাটাগরি ৫০ হাজার ও 'সি' ক্যাটাগরিতে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা পাবে।"
পুরুষ ক্রিকেটারদের বেতন বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, "পুরুষ ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আমি যদি ভুল না করে থাকি গত প্রায় ৩-৪ বছর ধরে তাদের বেতন বাড়েনি। এতদিন পুরুষ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ‘এ' ক্যাটাগরিতে ৩৫ হাজার, 'বি' ক্যাটাগরিতে ৩০ হাজার ও 'সি' ক্যাটাগরিতে ২৫ হাজার টাকা ছিল। আমার কাছে মনে হয় এটা অনেক কম।"
এই সিদ্ধান্তগুলো ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা বৃদ্ধির দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নতুন নেতৃত্বের অধীনে ক্রীড়া ক্ষেত্রে আরও উন্নয়নের আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।



