রাঙামাটিতে সংস্কৃতির মেলবন্ধনে সংরাই উৎসবের সমাপ্তি
পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সংরাই জল উৎসবের মাধ্যমে নতুন বছরের উদযাপন সম্পন্ন হয়েছে। পাহাড়ি শহরটি রঙিন উৎসবের আমেজে ভরে উঠেছিল, যেখানে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায় ও বাঙালি বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির বড় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
সরকারের সংস্কৃতি রক্ষার অঙ্গীকার
শুক্রবার সকাল ১১টায় চিংলা মং চৌধুরী মারি স্টেডিয়ামে মারমা কালচারাল অর্গানাইজেশন (ম্যাকো) এর আয়োজনে প্রধান অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য দীপেন দেবান। তিনি বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বত্র সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, অঞ্চলের ১৩টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, উত্তরাধিকার ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন যে কিছু গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ক্ষয়ের ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। মন্ত্রী যোগ করেন, তাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়তা প্রদানের জন্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সকল সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধার আহ্বান
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি ধর্ম বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল সংস্কৃতিকে গ্রহণ ও সম্মান করার মধ্যেই নিহিত।
তিনি আরও যোগ করেন যে এই উৎসব সকল সম্প্রদায়ের জন্য একটি মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে এবং দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
জলকেলির মাধ্যমে দুঃখ ধুয়ে মুছে ফেলা
উৎসব কমিটির আহ্বায়ক পাইচিং মং মারমা বলেন, সংরাই জল উৎসবের উদ্দেশ্য হলো গত বছরের দুঃখ-কষ্ট ধুয়ে মুছে ফেলে নতুন বছরকে নবীন সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন দিয়ে স্বাগত জানানো।
দুপুরের সূর্যালোকে রাঙামাটির পাহাড়গুলো আলোকিত হওয়ার সাথে সাথে মঞ্চে ঐতিহ্যবাহী মারমা গান ও নৃত্যের মাধ্যমে উৎসব প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। "জলকেলি" বা জল খেলা নামে পরিচিত উৎসবের মূল আকর্ষণে অংশগ্রহণকারীরা রঙিন পোশাকে একে অপরের উপর আনন্দে জল ছিটাতে থাকেন। মারমা বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রীতি গত বছরের দুর্ভাগ্য পরিষ্কার করার প্রতীক।
সকল বয়সের মানুষের অংশগ্রহণ
সকল বয়সের মানুষ উৎসবে অংশ নিয়ে অনুষ্ঠানটিকে একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক সমাবেশে পরিণত করেন। আয়োজকরা বলেন, সংরাই কেবল মারমা নতুন বছরের উদযাপন নয়, বরং পাহাড়ি ও সমতলের সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রচারের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
- উৎসবটি পার্বত্য চট্টগ্রামে বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের সেতু হিসেবে তার ভূমিকা আবারও তুলে ধরে।
- স্থানীয় ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে।
- সরকারি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি উৎসবের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে।
এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি রাঙামাটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বহুত্ববাদী বাংলাদেশের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।



