গুলশান সোসাইটির বৈশাখী মেলায় সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ
বাংলা নববর্ষের উৎসবমুখর পরিবেশে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার লেকপার্কে গুলশান সোসাইটির আয়োজনে মঙ্গলবার বিকেলে শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা। এই মেলা শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রদর্শনী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা নগরবাসীকে একত্রিত করেছে ধর্ম, বর্ণ ও বয়সের সীমানা অতিক্রম করে।
শিল্প ও সংগীতের মাধ্যমে সূচনা
পরম্পরা সংগীত একাডেমির সুরেলা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। সন্ধ্যায় দেশবরেণ্য শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করেন, যা মেলার সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এছাড়াও, দেশবরেণ্য চিত্র শিল্পীদের চিত্র প্রদর্শনী মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে স্থান পেয়েছে, যা স্থানীয় শিল্পকলার সমৃদ্ধিকে তুলে ধরেছে।
বৈচিত্র্যময় আয়োজন ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণ
মেলায় কারুশিল্প প্রদর্শনী থেকে শুরু করে নানান পোশাক, বাচ্চাদের খেলনার সমাহার এবং ভোজন বিলাসী পর্বে বাহারি সব খানাপিনার ব্যবস্থা ছিল, যা সকল বয়সের দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করেছে। মেলার মূল আয়োজক গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাতের তত্ত্বাবধানে এই উৎসব পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ বিভিন্ন স্তর ও শ্রেণি-পেশার মানুষ।
রাষ্ট্রদূত ও প্রশাসকের প্রতিক্রিয়া
মেলা পরিদর্শনে এসে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন এই আয়োজন ও বাঙালি সংস্কৃতির সুর-সংগীতের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "আমি সম্প্রতি ঢাকায় এসেছি। এসেই এধরণের একটি আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত অনুভব করছি।" অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, "আমরা চাই সবগুলো সোসাইটি থেকে এ ধরনের আয়োজন করা হোক। আমরা এসব আয়োজনে সহযোগিতা করছি। আমরা চাই, নগরবাসী উৎসবের মধ্যে থাকুন।"
সাংস্কৃতিক আয়োজনের গুরুত্ব
আয়োজন নিয়ে গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, "নগরকে বাঁচাতে হলে সাংস্কৃতিক আয়োজন করতে হবে। এসব আয়োজনে মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারলে আমরা একটি সুন্দর শহর করতে পারব। সেজন্যই আমাদের এ আয়োজন। একটি শহর শুধু কংক্রিট বা ভবন না, শহরকে বাঁচাতে হলে মানুষকে নানা আয়োজনে সম্পৃক্ত করতে হবে।" তার এই বক্তব্য নগরায়ন ও সামাজিক সংহতির গুরুত্বকে তুলে ধরে।
ধর্ম, বর্ণ, বয়স নির্বিশেষে নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধের সম্মিলিত উপস্থিতিতে এই বৈশাখী মেলা হয়ে ওঠে মেলবন্ধনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যা শহুরে জীবনে সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়।



