কিয়ামতের ময়দানে শয়তানের বিশ্বাসঘাতকতা: কোরআনে বর্ণিত ভয়াবহ পরিণতি
কিয়ামতে শয়তানের বিশ্বাসঘাতকতা: কোরআনের ভয়াবহ সতর্কতা

কিয়ামতের ময়দানে শয়তানের চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা

মানুষের চিরশত্রু ইবলিস শয়তান দুনিয়ার জীবনে নানা কৌশলে প্রলোভন দেখিয়ে পাপের পথে পরিচালিত করে। কিন্তু পরকালের কঠিন সময়ে এই শয়তানই তার অনুসারীদের সঙ্গে যে আচরণ করবে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ ও শিক্ষণীয়। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে এই চরম সত্যটি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা বর্তমান সময়ের মানুষের জন্য গভীর প্রতিফলনের বিষয়।

হাশরের ময়দানে চরম ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা

দুনিয়াতে যারা শয়তানের প্রলোভনে পড়ে পথভ্রষ্ট হয়, পরকালে তাদের অবস্থা হবে অত্যন্ত করুণ। সেদিন তারা নিজেদের পথভ্রষ্টকারীদের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়বে। পবিত্র কোরআনে সেই দৃশ্যটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে: ‘কাফেররা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক, যেসব জিন ও মানুষ আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদের আমাদের দেখিয়ে দিন; আমরা তাদের আমাদের পায়ের নিচে রাখব, যাতে তারা চরম লাঞ্ছিত হয়।’ (সুরা ফুসসিলাত, আয়াত: ২৯)।

এই আয়াতে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তাদের মনের তীব্র আক্রোশ ফুটে উঠেছে। তারা চাইবে তাদের সেই তথাকথিত নেতাদের—চাই তারা জিন হোক বা মানুষ—পায়ের নিচে পিষ্ট করতে। তারা মনে করবে, এদের কারণেই আজ তাদের এই দুরবস্থা। তাফসিরে ওয়াসিতে বলা হয়েছে, তারা সেদিন তাদের ওপর চরম ঘৃণা ও রাগে পা দিয়ে মাড়াতে চাইবে, যাতে তারা জাহান্নামের সবচেয়ে নিচু ও যন্ত্রণাদায়ক স্থানে নিক্ষিপ্ত হয়। (মুহাম্মদ সাইয়্যিদ তানতাউবি, তাফসিরুল ওয়াসিত, ১৩/১২৭, দারুন নাহদাহ, কায়রো, ১৯৯৮)।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শয়তানের চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা ও আত্মপক্ষ সমর্থন

সবচেয়ে নাটকীয় দৃশ্যটি তৈরি হবে যখন শয়তান তার অনুসারীদের সব দোষ তাদের ওপরই চাপিয়ে দেবে। যখন বিচারের সব কাজ শেষ হয়ে যাবে, তখন শয়তান এক দীর্ঘ ভাষণ দেবে। সে বলবে, ‘আল্লাহ তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা ছিল সত্য। আর আমি তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা ভঙ্গ করেছি। তোমাদের ওপর আমার কোনো আধিপত্য ছিল না, আমি শুধু তোমাদের ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছিলে।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ২২)।

শয়তান সেদিন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেবে যে, সে কাউকে জোর করে পাপে লিপ্ত করেনি। সে কেবল কুমন্ত্রণা দিয়েছিল, আর মানুষ নিজের ইচ্ছায় সেই পথে পা বাড়িয়েছে। ফলে দায়টাও মানুষের নিজেরই। শয়তান সেদিন তার অনুসারীদের আরও বলবে, ‘কাজেই তোমরা আমাকে তিরস্কার কোরো না, বরং নিজেদেরই তিরস্কার করো। আজ আমি তোমাদের কোনো উপকারে আসব না এবং তোমরাও আমার কোনো উপকারে আসবে না।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ২২)।

এই আয়াতটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, শয়তানের পথ বেছে নেওয়াটা ছিল মানুষের ভুল সিদ্ধান্ত। আল্লাহ বারবার শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে নিষেধ করা সত্ত্বেও মানুষ যখন তার প্রলোভনে সাড়া দেয়, তখন পরকালে আফসোস করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। সেখানে বন্ধুত্বের বদলে দেখা দেবে চিরশত্রুতা ও অনুতাপের আগুন।