২২তম তারাবিহতে কুরআন নাজিল ও শবে কদরের আলোচনা
আজ ১১ মার্চ, ২১ রমজান। সন্ধ্যা থেকেই ২২ রোজার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রমজানের ২২তম তারাবিহ নামাজে মুসল্লিদের হৃদয় ও মন মুগ্ধ হবে হাফেজে কুরআনদের তিলাওয়াতে। ইতেকাফের দশকের দ্বিতীয় তারাবিহতে ইতেকাফকারী ও সব নামাজিরা বিশেষভাবে অংশগ্রহণ করবেন। রোজাদার মুসল্লিরা তারাবিহ শেষে জাহান্নামের আগুন থেকে নিষ্কৃতি চাইবে দোয়ার মাধ্যমে।
লাইলাতুল কদর ও কুরআন নাজিলের ঘোষণা
আজকের তারাবিহতে লাইলাতুল কদর ও কুরআন নাজিল প্রসঙ্গে সুস্পষ্ট ঘোষণা এসেছে সুরা দুখানের আয়াত ১-৬-এ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমি একে (কুরআন) এক বরকতময় রাতে নাজিল করেছি। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী। আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ এই আয়াতগুলো আজকের তারাবিহতে বিশেষভাবে তিলাওয়াত হবে, যা মুসল্লিদের জন্য আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগ্রত করবে।
আজকের তারাবিহতে তিলাওয়াতকৃত সুরাসমূহ
আজকের তারাবিহতে সুরা হা-মিম আস-সাজদার আয়াত ৪৭-৫৪, সুরা শুরা, সুরা যুখরূফ, সুরা দুখান এবং সুরা জাসিয়া পড়া হবে। এ সঙ্গে ২৫তম পারার তিলাওয়াতও শেষ হবে আজ। সুরা হামীম আস সাজদায় প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মক্কার কুরাইশ সম্প্রদায়ের লোভনীয় প্রস্তাবের বিপক্ষে আল্লাহ তাআলার চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করা হয়েছে।
সুরাসমূহের সংক্ষিপ্ত আলোচনা
- সুরা হা-মীম আস-সাজদা: মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরাটি সাজদা, হা-মীম আস-সাজদা, মাসাবিহ ও ফুসসিলাত নামে পরিচিত। এতে বিশ্বনবির রিসালাতের বর্ণনা ও মৃত্যুপরবর্তী জীবনের আলোকপাত রয়েছে। কুরাইশদের লোভনীয় প্রস্তাবের জবাবে এ সুরা নাজিল হয় এবং মুমিন-কাফেরের পার্থক্য তুলে ধরা হয়।
- সুরা শুরা: মক্কায় নাজিল হওয়া এ সুরায় ওহির কথা বলা হয়েছে। প্রিয়নবির রিসালাতের প্রমাণ, কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার পর আল্লাহ তাআলা তাঁকে কাফেরদের নির্যাতনে ব্যথিত না হতে সান্ত্বনা দিয়েছেন। নবির পরিবারের সম্মান, তাওবাহ, সম্পদের প্রাচুর্য ও ধ্বংস, পরামর্শের গুরুত্ব প্রভৃতি বিষয় আলোচিত হয়েছে।
- সুরা যুখরূফ: মাক্কী এ সুরায় ওহি ও কুরআনের মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। কুরআনের সত্যতা ও বিশ্বনবির রিসালাতের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। জীবিকা বণ্টনের প্রাকৃতিক পদ্ধতি, সামাজিক সাম্য এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হওয়ার পরিণতি আলোচিত হয়েছে।
- সুরা দুখান: বরকতময় রজনীতে নাজিল হওয়া এ মাক্কী সুরায় কুরআনের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব আলোচিত হয়েছে। তুব্বা সম্প্রদায়ের ইসলাম গ্রহণ ও পরবর্তী ধ্বংসের বিবরণ বর্ণিত হয়েছে।
- সুরা জাসিয়া: মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরায় মানুষের আক্বিদা বিশ্বাসের সংশোধন সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়েছে। তাওহিদ, রিসালাত ও পরকালের প্রমাণ উপস্থাপন করে কাফেরদের সন্দেহ দূর করা হয়েছে।
রমজানের এই পবিত্র রাতে তারাবিহ নামাজ মুসল্লিদের জন্য আধ্যাত্মিক শান্তি ও পুণ্য অর্জনের সুযোগ এনে দিয়েছে। কুরআন নাজিল ও শবে কদরের আলোচনা আজকের তারাবিহকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ করেছে।



