যুক্তরাষ্ট্রে পরমাণু বিজ্ঞানীদের রহস্যজনক নিখোঁজ ও মৃত্যু: হোয়াইট হাউসের তদন্ত
যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক পরমাণু ও মহাকাশ বিজ্ঞানীর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছে হোয়াইট হাউস। কমপক্ষে ১০ জন বিজ্ঞানী এই ঘটনার শিকার হয়েছেন, যাদের অনেকেরই পারমাণবিক বা মহাকাশ গবেষণার গোপন তথ্যে প্রবেশাধিকার ছিল।
হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই বিষয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে এখনও পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হয়নি, তবে এই প্যাটার্নটি যথেষ্ট গুরুতর বলে বিবেচিত হচ্ছে। তাই প্রশাসন আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
নিখোঁজ বিজ্ঞানীদের তালিকা
নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন:
- মনিকা জাসিন্তো রেজা: নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির সিনিয়র মহাকাশ প্রকৌশলী ও উপকরণ প্রক্রিয়াকরণ বিভাগের পরিচালক, যিনি ২০২৫ সালের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হন।
- স্টিভেন গার্সিয়া: সরকারি ঠিকাদার, আলবুকার্কের কানসাস সিটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি ক্যাম্পাসে কর্মরত, ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট নিখোঁজ হন।
- অ্যান্থনি চাভেজ: লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সাবেক কর্মী, ২০২৫ সালের মে মাসে নিখোঁজ হন।
- উইলিয়াম ‘নিল’ ম্যাককাসল্যান্ড: অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ফোর্স মেজর জেনারেল ও এয়ার ফোর্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির সাবেক কমান্ডার, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিখোঁজ হন।
মৃত্যুর ঘটনাগুলো
মৃত্যুর ঘটনাগুলোও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী ফ্র্যাংক মাইওয়াল্ড ২০২৪ সালে মারা যান, কিন্তু তার মৃত্যুর কারণ প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। একই ল্যাবরেটরির গবেষক মাইকেল ডেভিড হিকস, যিনি ডার্ট প্রজেক্ট ও ডিপ স্পেস ১ মিশনে কাজ করেছিলেন, তিনি ২০২৩ সালের জুলাইয়ে মারা যান এবং তার মৃত্যুর কারণও গোপন রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট
এই ঘটনাগুলো এমন সময়ে ঘটছে যখন হোয়াইট হাউস নাসা ও পেন্টাগনকে পারমাণবিক মহাকাশ চুল্লি তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কংগ্রেসম্যান এরিক বার্লিসন এফবিআইকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তে যুক্ত হতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উচ্চতর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এত বেশি ঘটনার সংখ্যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতামত
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনেকেই ফোন ও মানিব্যাগের মতো জরুরি ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফেলে রেখে গেছেন। এই ধরনের আচরণ দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো পরিকল্পিত হুমকির ইঙ্গিত দিতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড



