কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: গেটম্যানদের দায়িত্ব বদল ও অবহেলায় ১২ জন নিহত
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে গেটম্যানদের অবহেলা

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: গেটম্যানদের দায়িত্ব বদল ও অবহেলায় ১২ জন নিহত

কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে সংঘটিত বাস-ট্রেন সংঘর্ষের ভয়াবহ ঘটনায় রেলওয়ের তদন্ত কমিটি চার গেটম্যানের গাফিলতি ও অবহেলা চিহ্নিত করেছে। গত ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন দিবাগত রাতে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় ১২ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনটি শিশুও ছিল। এছাড়া বাসের চালকসহ অন্তত ২৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

দায়িত্ব বদলের বিনিময়ে টাকা ও ঘুমের ঘটনা

তদন্তে উঠে এসেছে, দুর্ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনের কথা ছিল রেলওয়ের দুই গেটম্যান মো. মেহেদী হাসান ও মো. হেলাল উদ্দিনের। কিন্তু তাঁরা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে টাকার বিনিময়ে নাজমুল হোসেন ও কাউসার হোসেন নামের অন্য দুই গেটম্যানের সঙ্গে দায়িত্ব বদল করেন। এরপর মেহেদী ও হেলাল বাড়ি চলে যান। দায়িত্ব বদলের বিনিময়ে টাকা নেওয়া দুই গেটম্যান নাজমুল ও কাউসার সেদিন রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, ফলে ট্রেন আসার সময় গেট ব্যারিয়ার না ফেলায় রেলপথের ওপর যাত্রীবাহী বাস চলে আসে।

চারটি মূল কারণ চিহ্নিত

রেলওয়ের তদন্ত কমিটি এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্য চারটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছে:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • রেলওয়ের চার গেটম্যানের নিয়মবহির্ভূতভাবে দায়িত্ব বদল
  • রেলক্রসিংয়ে সময়মতো গেট ব্যারিয়ার না ফেলা
  • রেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তদারকি ব্যর্থতা
  • বাসচালকের বেপরোয়া গতিতে বাস চালানো

এসব কারণে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের বাসের সংঘর্ষ ঘটে। ট্রেন বাসটিকে ইঞ্জিনের মুখে করে প্রায় ৭০০ মিটার দূরে দৈয়ারা নামক স্থানে নিয়ে থামে, যার ফলে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং বহু যাত্রী হতাহত হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও তদারকি ব্যর্থতা

তদন্তে কেবল মানবিক গাফিলতিই নয়, অবকাঠামোগত দুর্বলতাও উঠে এসেছে। ই/৪৭ স্পেশাল গেটে বিদ্যুৎ না থাকায় অ্যালার্ম বেল ও আইপি ফোন কার্যকর ছিল না। গেটকিপারদের জন্য নির্ধারিত ঘরে টয়লেট, পানি ও বিদ্যুতের সঠিক ব্যবস্থা ছিল না। রেলের প্রকৌশল বিভাগের এসব দেখার কথা থাকলেও তাঁরা তদারকি করেননি, যা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারত।

জেলা প্রশাসনের তদন্ত ও গ্রেপ্তার

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও সংঘর্ষের জন্য প্রায় একই ধরনের কারণ খুঁজে পেয়েছে। এতে গেটম্যানদের পাশাপাশি সহকারী স্টেশন মাস্টার, ট্রেনচালক ও সহকারী ট্রেনচালকের অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ে এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সমন্বয়হীনতার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত এক বাসযাত্রীর স্বজনের করা মামলায় এখন পর্যন্ত ওই রেলক্রসিংয়ের তিন গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব ও পুলিশ।

সুপারিশ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

রেলওয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো খুঁজে বের করার পাশাপাশি দায়িত্বহীন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বেশ কিছু সুপারিশও দিয়েছেন, যদিও প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে তিনি রাজি হননি। এই ঘটনা রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।