জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান: ১৫ জন আটক, কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান, ১৫ জন আটক

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান: ১৫ জন আটক, স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের ঘোষণা

চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকা জঙ্গল সলিমপুর, যা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত, তা থেকে মুক্ত করতে যৌথ বাহিনীর ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ছয়টা থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সদস্যরা এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবীব জানিয়েছেন, অভিযানে ইতিমধ্যে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং এটি চলমান রয়েছে।

ডিআইজি আহসান হাবীবের কঠোর ঘোষণা

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ডিআইজি আহসান হাবীব। তিনি বলেন, "আমাদের মূল ফোকাস ছিল এই বিশাল অংশে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং আমরা সেটি করতে পেরেছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আজ থেকে পুলিশ ও র্যাবের দুটি স্থায়ী ক্যাম্প এলাকায় কাজ করবে। ক্যাম্পের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজন হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

তিনি বলেন, "ক্যাম্পের নিরাপত্তা বিধানে যদি এখানে কামান দেওয়া লাগে, আমরা কামান দেব।" এই বক্তব্য এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়কে তুলে ধরে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৩,২০০ সদস্যের যৌথ অভিযান

ডিআইজি আহসান হাবীব জানান, এই অভিযানে র্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও এপিবিএনের মোট ৩ হাজার ২০০ সদস্য অংশগ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, "আমরা এখানে ভোর থেকে কাজ করছি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।" সুবিশাল চিহ্নিত এলাকায় প্রশাসনের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও প্রশাসনকে অনুরোধ করার কথাও তিনি জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্য

জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। তিনি বলেন, "সরকার পূর্বে এই এলাকা ঘিরে যে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছিল, এখন সেটি আমরা শুরু করব।" এই উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে এলাকার অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটানো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অভিযানের পটভূমি ও পর্যবেক্ষণ

সোমবার ভোরের আলো ফোটার আগেই চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় যৌথ বাহিনী। এছাড়া, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো ঘটনা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। এই অভিযানটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অপরাধ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যৌথ বাহিনীর এই অভিযান শুধুমাত্র আটককার্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। সরকারের এই সক্রিয় পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।