কুষ্টিয়ায় পীরের দরবারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ: ছাত্র আন্দোলনের তীব্র প্রতিবাদ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এক পীরের দরবারে ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া এবং পীরকে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। শনিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর গ্রামে এই হামলা সংঘটিত হয়, যেখানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দরবারটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শনিবার দুপুরের দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর পীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি, তার দরবারে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়। এই ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
ছাত্র আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া ও দাবি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এই ন্যক্কারজনক ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও উৎকণ্ঠার হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটি মনে করে, এটি নির্বাচিত বিএনপি সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ, এবং এই ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এড়াতে পারেন না। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা, যেখানে সব নাগরিকের সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।
সংগঠনটি সরকারের প্রতি উক্ত ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দোষী ব্যক্তিদের অতিদ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি, বাউলশিল্পীসহ ফকির ও অন্যান্য ধর্মীয় ধারা-উপধারার ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ, কিন্তু এর জন্য আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে; বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা আইনহীনতা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান উদ্বেগ
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মাজার ভাঙা, মৃত মানুষকে কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেওয়া এবং দরগাহ ও ওরসকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। তবে, নির্বাচিত সরকারের সময়ে এসেও এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সংগঠনটি। তারা সতর্ক করে দিয়েছে যে, এমন ঘটনা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যেমন ধর্মীয় অনুভূতিকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে, তেমনি প্রতিটি ধর্ম ও ধর্মীয় ধারা-উপধারার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিজস্ব ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতিচর্চার অধিকারকেও সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে। এই ঘটনাটি তাই তাদের জন্য একটি গভীর আঘাত হিসেবে পরিগণিত হয়েছে, এবং তারা দ্রুত ন্যায়বিচার কামনা করছে।



