কুষ্টিয়ায় পীর হত্যার ঘটনায় গণসংহতি আন্দোলন ও উদীচীর নিন্দা, গ্রেপ্তারের দাবি
কুষ্টিয়ায় পীর হত্যায় গণসংহতি ও উদীচীর নিন্দা, গ্রেপ্তারের দাবি

কুষ্টিয়ায় পীর হত্যার ঘটনায় গণসংহতি আন্দোলন ও উদীচীর তীব্র নিন্দা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পীরের আস্তানায় হামলা চালিয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। দলটি এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে সরকার মব সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে দমন করবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর একাংশের প্রতিবাদ

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর একাংশও জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে। শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক বিবৃতিতে গণসংহতি আন্দোলন এবং উদীচীর শীর্ষ নেতারা তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ঘটনাটি শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঘটে, যখন দৌলতপুরের ফিলিপনগরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে আস্তানায় হামলা চালিয়ে ‘পীর’ শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

গণসংহতি আন্দোলনের বিবৃতি

গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশিদ ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসানের পাঠানো বিবৃতিতে কুষ্টিয়ার ঘটনাকে ভয়াবহ উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনা দেশের জননিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ওপর বড় ধরনের আঘাত। তারা অবিলম্বে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গণসংহতি আন্দোলন তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে মব সংস্কৃতি আর থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সরকারকে অবশ্যই তাদের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে এবং মব সংস্কৃতি যাতে কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের বিকল্প হয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদীচীর বিবৃতি ও সরকারের প্রতি প্রত্যাশা

অন্যদিকে, কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর একাংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভিন্নমতের ওপর জুলুম-নির্যাতনকে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার উৎসাহ জুগিয়েছে। আজ দেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং মানুষের প্রত্যাশা হলো এই সরকার মব সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে দমন করবে।

একই সঙ্গে সমাজের সব মত ও পথের মানুষকে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার এবং নিজ নিজ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ঘটনা দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে বলে উভয় সংগঠন মনে করে।