ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাসের দাবি
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ রেখে ইসরাইলের নতুন আইনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আলেমদের সামাজিক সংগঠন দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশ। সংগঠনটি ইসরাইলের মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাসের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
নৃশংস আইনের তীব্র প্রতিবাদ
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশের আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল ও মহাসচিব মুফতি বশিরুল্লাহ বলেন, নিরপরাধ ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের লক্ষ্যে যে নৃশংস আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, তা মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের চরম পরিপন্থী। তারা উল্লেখ করেন, সুস্থ বিবেকসম্পন্ন কোনো মানুষ এমন ন্যাক্কারজনক ও অমানবিক আইন প্রণয়নের কথা কল্পনাও করতে পারে না।
বিবৃতিতে সংগঠনটি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রণীত এই অমানবিক ও নিকৃষ্ট আইনের তীব্র নিন্দা জানায় এবং এর প্রণেতাদের প্রতি ধিক্কার জ্ঞাপন করে। একইসঙ্গে, মানবতাবিরোধী এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সর্বস্তরে সোচ্চার হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা
জরুরি ভিত্তিতে এই আইন বাতিলের জন্য জাতিসংঘ, ওআইসিসহ সংশ্লিষ্ট সব আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয় বিবৃতিতে। দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশের নেতারা বলেন, গাজায় চলমান সহিংসতা ও ব্যাপক প্রাণহানি মানবতার সীমা অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষার দাবিদার শক্তিগুলোর নীরবতা ও দ্বৈতনীতি বিশ্ববাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তারা অভিযোগ করেন, শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থনের কারণে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর দীর্ঘদিন ধরে দখলদারিত্ব ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করা হয়।
জাতীয় সংসদে নিন্দা প্রস্তাবের আহ্বান
দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশের নেতারা বলেন, বর্তমানে দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলমান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুস্পষ্ট ও কঠোর নিন্দা প্রস্তাব পাসের জন্য তারা সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছেন। পাশাপাশি, দেশের জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আল-আকসা মসজিদ মুসলিম উম্মাহর প্রথম কিবলা এবং ঈমানি চেতনার প্রতীক। ইসরাইলি বাহিনী পবিত্র রমজান ও পরবর্তী সময়ে যেভাবে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করছে এবং নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের রক্ত ঝরাচ্ছে, তা বিশ্ব বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই বর্বরতা অবিলম্বে বন্ধে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলকে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির এই বিবৃতি ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় মহলের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন ঘটায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষায় collective দায়িত্বের ওপর জোর দেয়।



