হবিগঞ্জের চা বাগানে পর্যটক তরুণী অপহরণ ও ধর্ষণ: এক আসামি গ্রেফতার
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে এক পর্যটক তরুণীকে অপহরণ করে ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) বিকালে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে দুই যুবক তরুণীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং তার স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এক আসামি গ্রেফতার করেছে, অন্যজন পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ওই তরুণী তার এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে মাধবপুর বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সাতছড়ি ও সুরমা চা বাগানে ঘুরতে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা সুরমা চা বাগানের সামনে সিএনজি রেখে হেঁটে বাগানের ভেতরে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আসামি জসিম মিয়া ও পলাতক শাহীন মিয়া ‘ডাকাত’ বলে ধাওয়া দিলে তরুণীর সঙ্গে থাকা যুবক পালিয়ে যান।
এ সুযোগে আসামিরা তরুণীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে বাগানের গভীর নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তারা তাকে ধর্ষণ করে এবং মারধর করা হয়। এ সময় তার কানে থাকা স্বর্ণের এক জোড়া দুল ছিনিয়ে নেয় আসামিরা। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কান্নাকাটি শুরু করলে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে।
পুলিশের অভিযান ও গ্রেফতার
তরুণীর সঙ্গে থাকা যুবক বিষয়টি পুলিশকে জানালে মাধবপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই জসিম মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের সময় তার দেহ তল্লাশি করে ভুক্তভোগীর স্বর্ণের দুল উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলায় আদালতের নির্দেশে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করেছে এবং পলাতক শাহীন মিয়ার নাম প্রকাশ করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে হবিগঞ্জের ২৫০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আরেকটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা
এদিকে মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন এলাকায় ঈদের ছুটিতে বেড়াতে যাওয়ার পথে একটি পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ছাতিয়াইন-পৈলাবাড়ি সড়কে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় নারী-পুরুষসহ একই পরিবারের ৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী তোফায়েল চৌধুরী জানান, তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পিয়াইম গ্রামে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথে ছাতিয়াইন এলাকায় তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করে রাব্বি ও জুয়েল মিয়ার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তারা। হামলাকারীরা পরিবারের নারী সদস্যদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তোফায়েল চৌধুরী বাদী হয়ে মঙ্গলবার ছাতিয়াইন গ্রামের কুতুব মিয়ার ছেলে রাব্বি, জুয়েল মিয়াসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



