মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনর্গঠনের আহ্বান
মিউনিখ সম্মেলনে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনর্গঠনের আহ্বান

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনর্গঠনের জোরালো আহ্বান

জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত ন্যাটোর বার্ষিক নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক ‘পুনর্গঠন’ বা নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার শুরু হওয়া এই শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপের নেতারা তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি ও অংশীদারত্বের আহ্বান

সম্মেলনের প্রথম দিন থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর বিষয়টি। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ‘নতুন ট্রান্সআটলান্টিক অংশীদারত্ব’-এর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ন্যাটোর অংশ হওয়া শুধু ইউরোপের নয়, যুক্তরাষ্ট্রেরও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা। আসুন, আমরা একসঙ্গে ট্রান্সআটলান্টিক আস্থা পুনরুদ্ধার করি।’ ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও ‘একটি শক্তিশালী ইউরোপ’ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

দ্বিতীয় দিনের আলোচনা ও মার্কিন অংশগ্রহণ

গতকাল শনিবার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অব্যাহত ছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অংশ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা এবং সামরিক সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। এছাড়া, তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গেও বৈঠক করেন, যেখানে ওয়াং বলেন, ‘সংলাপ সংঘাতের চেয়ে ভালো, সহযোগিতা দ্বন্দ্বের চেয়ে উত্তম’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্য

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গতকাল ভাষণে ইউরোপকে ‘ঘুমন্ত দৈত্য’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানান। তাঁর দপ্তর থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, তিনি ইউরোপের স্বাধীন প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেবেন। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতে বলেন, ইউরোপ এখন ন্যাটোর ভেতরে অধিকতর নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব বেশি করে নিচ্ছে। তিনি যোগ করেন, ‘শক্তিশালী ন্যাটোর ভেতরে শক্তিশালী ইউরোপ মানে ট্রান্সআটলান্টিক বন্ধন আরও দৃঢ় হওয়া।’

সম্মেলনের সার্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ৬০টির বেশি দেশের নেতারা অংশ নিয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপের কথা বলেন। ইউরোপীয় নেতাদের এই আহ্বান ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গঠনে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সম্মেলন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।