বাগেরহাটের বিদ্যালয়ে বৈশাখ উদযাপন: কলাপাতায় খিচুড়ি খেল শিক্ষার্থীরা
বাগেরহাটে বিদ্যালয়ে বৈশাখ: কলাপাতায় খিচুড়ি খেল শিক্ষার্থী

বাগেরহাটের বিদ্যালয়ে বৈশাখ উদযাপন: কলাপাতায় খিচুড়ি খেল শিক্ষার্থীরা

আজ মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখে বাগেরহাট সদর উপজেলার চিতলী-বৈটপুর এলাকার উদ্দীপন বদর-সামছু বিদ্যানিকেতনে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা বৈশাখের সাজে সেজেগুজে বিদ্যালয়ে হাজির হয়, যাদের মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণির সুমাইয়াও ছিল। সে লাল-সাদা শাড়ি পরে উৎসাহের সঙ্গে বলল, ‘আজ পয়লা বৈশাখ। স্কুলে তো মেলা হবে, অনুষ্ঠান।’

শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন

বিদ্যালয়ের মাঠে শিশুদের জন্য দোলনা ও স্লিপার নিয়ে খেলার আয়োজন করা হয়, যেখানে টিকিট হিসেবে গাছের পাতা ব্যবহার করা হয়। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এই ব্যবস্থা করে, যা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা পায়। এরপর শুরু হয় বর্ষবরণ শোভাযাত্রা, যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বর্ণিল সাজে গ্রামের পথে প্রদক্ষিণ করেন। বিদ্যালয়ে ফিরে নাচ-গানের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে, যা উৎসবের আবহ আরও জোরদার করে।

কলাপাতায় মধ্যাহ্নভোজ: ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন

বেলা গড়িয়ে দুপুরে শুরু হয় বিশাল কর্মযজ্ঞ। শত শত শিক্ষার্থী সাইক্লোন শেল্টার ভবনের নিচের ফাঁকা জায়গায় জড়ো হয় মধ্যাহ্নভোজের জন্য। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা প্রথমে বসে, আর নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে কলাপাতায় খিচুড়ি পরিবেশন করা হয়, যা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনার পদ্ধতি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার বলে, ‘আমরা শুনেছি, কলাপাতায় নাকি আগে দাওয়াতে খাবার দিত, কিন্তু কখনো দেখিনি। আজ আমরা সবাই কলাপাতায় খেলাম; খাওয়ালাম। এটা দারুণ একটা অভিজ্ঞতা।’ ষষ্ঠ শ্রেণির তাইজুল ইসলাম যোগ করে, ‘খুব মজা হয়েছে। কলাপাতায় কখনো খাইনি। মনে হচ্ছিল, যেন স্কুলে পিকনিক হচ্ছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও পরিবেশ সচেতনতা

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী যুথী আক্তার বলেন, ‘আমরা অনেকেই এসেছি আজকের আয়োজনে। সবার খুব ভালো লাগছে। একসঙ্গে মিলে কিছু কাজে জুনিয়রদের সহায়তা করছি।’ বিদ্যালয়টি সামসউদ্দিন-নাহার ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়, যেখানে প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চলে।

ট্রাস্টের প্রধান সমন্বয়ক সুব্রত কুমার মুখার্জি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনেক সমৃদ্ধ। নানা আয়োজনে আমরা প্লাস্টিকের একবার ব্যবহারযোগ্য প্লেট-গ্লাস ব্যবহার করি, কিন্তু ঐতিহ্যগতভাবে আমরা পরিবেশসম্মত পণ্য ব্যবহার করে আসছি। কলাপাতা, মাটির পাত্রসহ অনেক কিছু আছে, যা এখন হারাতে বসেছে। আমরা চেয়েছি, আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যকে অকৃত্রিমভাবে উপস্থাপন করতে এবং আগামী প্রজন্মের সঙ্গে এই অনুষঙ্গগুলোর সেতুবন্ধ তৈরি করতে।’

এই আয়োজনে বিদ্যালয়ের সাড়ে ৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়, যা পয়লা বৈশাখের ব্যতিক্রমী উদযাপন হিসেবে স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়।