জাতীয় প্রেসক্লাবে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন
জাতীয় প্রেসক্লাবে জমজমাট পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সকাল থেকে দিনভর এ আয়োজনে অংশ নেন প্রেসক্লাবের সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবটি পালিত হয়।
ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন
সকাল ৮টায় প্রেসক্লাবের সদস্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। খই, মুড়ি-মুড়কি, পায়েস, বাতাসা, খিচুড়ি ও পান্তা-ইলিশসহ নানা ঐতিহ্যবাহী পদ পরিবেশন করা হয়। পরে মধ্যাহ্নভোজেও দেশীয় বিশেষ খাবার উপস্থাপন করা হয়, যা উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঝলক
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রেসক্লাব সদস্যদের সন্তানদের পরিবেশনায় ‘এসো হে বৈশাখ এসো’ গান দিয়ে। এরপর একের পর এক বাউল, ভাওয়াইয়া ও দেশীয় গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে বাউলগান পরিবেশন করেন:
- পুতুল বাউল
- উপমা বাউল
- উল্কা হোসেন
- ইমু বাউল
- শামিম বাউল
এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী সোহানুর রহমান, আবিদা রহমান ও মোহনা দাস সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচ, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
বর্ষবরণ উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, "সংস্কৃতির বহুত্ববাদ না বুঝে কেউ কেউ নববর্ষের গায়ে নানা মতের মুখোশ পরাতে চায়।" বাংলা নববর্ষের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে মোগল আমলে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয় হিজরি সাল থেকে সংখ্যা গ্রহণ করে, কিন্তু এর সারবস্তু হিসেবে কৃষকের ফসল ও হালখাতার সংস্কৃতিকে গ্রহণ করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, "বাংলা নববর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের মিলন ঘটে। এই উৎসব জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য রূপ। দেশকে যেমন নিজের পায়ে দাঁড় করাতে হবে, তেমনি দেশীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে হবে।"
অনুষ্ঠানের আয়োজক ও উপস্থিতি
সকাল ৯টায় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের বিশেষ অনুষ্ঠান ও আপ্যায়ন উপকমিটির আহ্বায়ক কাদের গণি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন:
- সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া
- সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সাংস্কৃতিক উপকমিটির আহ্বায়ক কাজী রওনাক হোসেন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রাণা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ বেগম, মোহাম্মদ মোমিন হোসেন, মাসুমুর রহমান খলিলী, এ কে এম মহসীন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
এই আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় প্রেসক্লাব বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধভাবে তুলে ধরেছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।



