এসএমই ফাউন্ডেশনের প্রথম বৈশাখী মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম
পয়লা বৈশাখের উৎসবকে ঘিরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রথমবারের মতো বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। মেলার তৃতীয় দিনে আজ মঙ্গলবার দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও টিকিট কাউন্টারে লম্বা লাইন দেখা গেছে, যেখানে অনেকেই পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে মেলার আয়োজন উপভোগ করতে এসেছেন।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসাহ ও বিক্রি বৃদ্ধি
মেলায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, প্রথম দুই দিনের তুলনায় আজ দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন স্টলে ঘুরে দর্শনার্থীরা পছন্দসই পণ্য কিনছেন, ছবি তুলছেন এবং দেশীয় খাবারের স্বাদ নিচ্ছেন।
বিভিন্ন স্টলের সাফল্য ও বিক্রির হার
মেলায় আগত দর্শনার্থীদের বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে গয়না, খাবার, পোশাক ও ভিন্নধর্মী পণ্যের স্টলে। উদাহরণস্বরূপ, 'আট কুঠুরি নয় দরজা' নামের গয়নার স্টলে ৪০০ শতাধিক নকশার ২৬ ধরনের গয়না প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাফসা মোসলেম জানান, গতকাল প্রায় ৬০ হাজার টাকার গয়না বিক্রি হয়েছে এবং আজ এক লাখ টাকার বিক্রির আশা করা হচ্ছে।
অরগানিক শস্যভান্ডার নামের প্রতিষ্ঠান বান্দরবান ও মানিকগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা পাহাড়ি চাল, পেঁপে, কাঁঠালসহ প্রায় ৬০ ধরনের পণ্য বিক্রি করছে। সহকারী সমন্বয়ক দেবব্রত বর্মণ বলেন, প্রথম দিন ৪ হাজার টাকা ও দ্বিতীয় দিন ১৭ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে, আজ দুপুর ১২টার আগেই ১০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়েছে।
ঘর সাজানোর শোপিস বিক্রির প্রতিষ্ঠান 'দেয়াল কাব্য'র উদ্যোক্তা লুবনা হাবিব জানান, প্রথম ২ দিনে প্রায় ২৩ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে এবং আজ সকাল থেকে গতকালের তুলনায় তিন গুণ বেশি ক্রেতা এসেছে।
মেলার অন্যান্য আকর্ষণ ও ব্যবস্থাপনা
মেলায় ইকো সোর্স বাংলাদেশের মতো প্রতিষ্ঠান পাটজাত পণ্য বিক্রি করছে, যেখানে আজ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়েছে। স্বত্বাধিকারী আফজাল হোসেন আশা করছেন, মেলায় মোট ৪ লাখ টাকার মতো পণ্য বিক্রি হবে।
মেলায় ১৫০টি স্টল এবং ৩০টি খাবারের দোকান রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল প্রায় ১২ হাজার দর্শনার্থী আসলেও আজ প্রথম ৫ ঘণ্টায় প্রায় ২০ হাজার দর্শনার্থী এসেছেন। মোট এক লাখ দর্শনার্থীর জন্য টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবে মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু ক্ষোভও রয়েছে। পর্যাপ্ত এয়ার কন্ডিশন না থাকায় গরমে দর্শনার্থীদের অসুবিধা হচ্ছে এবং টিকিট কাউন্টার কম হওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। মেলায় প্রবেশের জন্য সাধারণ টিকিট ৩০ টাকা এবং এক্সপ্রেস টিকিট ২০০ টাকা, সাথে ফ্রি পার্কিং সুবিধা রয়েছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে এবং ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত স্থায়ী হবে।



