গুলশানে চৈত্র সংক্রান্তির রাতে আলপনা উৎসবের আয়োজন
গুলশানের বাসিন্দাদের সংগঠন গুলশান সোসাইটি চৈত্র সংক্রান্তির রাতে একটি বর্ণাঢ্য আলপনা উৎসবের আয়োজন করেছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলশান-২ এলাকার লেক পার্ক সংলগ্ন ৬২ নম্বর সড়কে এই উৎসব শুরু হয়, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে। স্থানীয় নারী, শিশু ও বাসিন্দারা উৎসবে অংশ নিয়ে আলপনা অঙ্কনে মেতে ওঠেন, যা এলাকার সাংস্কৃতিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি
উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত এবং সংগঠনের অন্যান্য সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন। ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে বলেন, 'আমরা চাই সবগুলো সোসাইটি থেকে এ ধরনের আয়োজন করা হোক। আমরা এসব আয়োজনে সহযোগিতা করছি এবং নগরবাসীকে উৎসবের মধ্যে রাখতে চাই।' তার এই মন্তব্য স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাথে নগর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে।
সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে নগর উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি
গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত আলপনা উৎসবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, 'নগরকে বাঁচাতে হলে সাংস্কৃতিক আয়োজন করতে হবে। এসব আয়োজনে মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারলে আমরা একটি সুন্দর শহর গড়ে তুলতে পারব। একটি শহর শুধু কংক্রিট বা ভবন নয়, শহরকে বাঁচাতে হলে মানুষকে নানা আয়োজনে সম্পৃক্ত করতে হবে।' তার এই বক্তব্য নগর জীবনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভূমিকা ও সামাজিক সংহতির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এছাড়া, গুলশান সোসাইটি আগামী পহেলা বৈশাখের জন্য বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। বিগত বছরের মতো এবারও গুলশান লেক পার্কে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি থাকবে। মঙ্গলবার বিকাল থেকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করবে। গুলশান সোসাইটির এই উদ্যোগ নগরায়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও আনন্দ ছড়িয়ে দিচ্ছে।



