বগুড়ায় পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার প্রস্তুতি সম্পন্ন
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বরণ করতে বগুড়ায় শুরু হতে যাচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা। চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এ মেলাকে ঘিরে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরাম ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তন চত্বর ও পৌর পার্কে।
উদ্বোধন ও আমন্ত্রিত অতিথিরা
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। মেলা চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
মেলার বৈশিষ্ট্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
আয়োজকরা জানিয়েছেন, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবকে কেন্দ্র করে মেলায় থাকবে লোকজ সংস্কৃতির বিশাল আয়োজন। বৈশাখী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে মেলার সূচনা হবে। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকায় শোভাযাত্রায় মুখোশ ব্যবহার করা হবে না। শোভাযাত্রায় থাকবে সাজসজ্জিত পালকি, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়িসহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের নানা প্রতীক।
মেলায় থাকবে পালাগান, লোকায়ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, যাত্রাপালা, বাউলগান, গ্রামীণ খেলা, শিশুদের সৃজনশীল প্রতিযোগিতা, চারু, কারু, কুটির শিল্পের প্রদর্শন ও বিপণন। প্রতিদিন পৌর পার্কে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে যা দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
স্টল ও বিনোদনের ব্যবস্থা
এ ছাড়া মেলায় প্রায় ৬০টি স্টলে স্থানীয় কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্য, কৃষিপণ্য, বাঁশ, বেত ও পাটের সামগ্রী, মাটির তৈজস, শোলা, শিশুদের খেলনা ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান থাকবে। শিশুদের বিনোদনের জন্য থাকবে নাগরদোলা ও সাম্পান নৌকার ব্যবস্থা যা মেলার আকর্ষণ বাড়াবে।
আয়োজকদের বক্তব্য
বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরামের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ খন্দকার বলেন, ‘নববর্ষ উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় সুষ্ঠু পরিবেশে মেলা সম্পন্ন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা আশা করি স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শকরা এ মেলা উপভোগ করবেন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মেলায় নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। এ বছর বৈশাখী মেলার মাধ্যমে বগুড়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।



