বৈবাহিক সম্পর্ক একদিনে ভেঙে যায় না— ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি হতে হতে এক সময় সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক সময়ই এই পরিবর্তনগুলো চোখে পড়ে না। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ থাকে, যেগুলো ইঙ্গিত দেয় যে সম্পর্কটি এখনই মনোযোগ ও সমাধানের প্রয়োজন। নিচে এমন কিছু মূল সংকেত নিয়ে বলা হলো—
সঙ্গীর পাশে থেকেও একাকীত্ব অনুভব করা
একই ঘরে থেকেও যদি নিজেকে একা মনে হয়, তাহলে সেটা সম্পর্কের মানসিক দূরত্বের ইঙ্গিত। এটি বোঝায় যে, আবেগ ও যোগাযোগের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এটিই ধীরে ধীরে সম্পর্ককে ঠান্ডা করে দেয়। এক সময় এই নীরব দূরত্ব বা কথোপকথনের অভাবই বিচ্ছেদে রূপ নেয়।
সঙ্গী থেকে দূরে থাকতে চাওয়া বা আলাদা সময় কাটাতে বেশি আগ্রহ
যদি সবসময় সঙ্গীর থেকে দূরে থাকার চিন্তা স্বস্তি দেয় বা সুযোগ পেলেই আলাদা থাকতে ইচ্ছা হয়, তাহলে সেটি সম্পর্কের মধ্যে চাপ বা অস্বস্তির লক্ষণ হতে পারে। কারণ একসঙ্গে থাকলে আপনার দম বন্ধ লাগে কিংবা সঙ্গীর কার্যকলাপ বা কথাবার্তা অসহ্য লাগে। তাই আপনি একা সময় কাটানোই শ্রেয় মনে করেন।
নিজের আগের ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলার অনুভূতি
সম্পর্কের কারণে যদি মনে হয় নিজের পছন্দ, আগ্রহ বা পরিচয় হারিয়ে যাচ্ছে, তাহলে তা উদ্বেগজনক। সুস্থ সম্পর্কেও ব্যক্তিগত পরিচয় বজায় থাকা জরুরি। সঙ্গীর মতামত বা পছন্দ-অপছন্দকে সম্মান করা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু তাই বলে নিজের সত্ত্বাকে হারানো যাবে না। নিজের মতামতের প্রতিও যত্নশীল হতে হবে, মূল্য দিতে হবে।
সঙ্গী সম্পর্কে অন্যদের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা
পরিবার বা বন্ধুদের সামনে নিজের সঙ্গী নিয়ে কথা এড়িয়ে চলা বা লুকানোর প্রবণতা সম্পর্কের ভেতরের অমীমাংসিত সমস্যা বা দূরত্বের ইঙ্গিত দেয়। আপনি যদি আপনার পরিবারের অন্য কারও সঙ্গে কিংবা বন্ধুবান্ধব অথবা অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে নিজের সঙ্গীকে নিয়ে কথা বলতে অনাগ্রহ দেখান, তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি নির্দেশ করে যে আপনি সঙ্গীর প্রতি ক্ষোভ বা বিরক্তি পালন করছেন। পরবর্তীতে এটাই সম্পর্কের ভাঙ্গনে রূপ নেয়।



