হজ একটি পবিত্র ইবাদত। ইহরাম বাঁধার পর থেকে হজের প্রতিটি ধাপ সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পালন করতে হয়। হজের কোনো ওয়াজিব কাজ বাদ পড়লে বা ইহরামের নিষিদ্ধ কোনো কাজে লিপ্ত হলে তার প্রতিকার হিসেবে ‘দম’ বা কুরবানি দেওয়া ওয়াজিব হয়ে যায়। নিচে এমন কাজগুলো উল্লেখ করা হলো যেগুলো বাদ পড়লে দম ওয়াজিব হয়।
যেসব কাজ বাদ পড়লে দম ওয়াজিব হয়
হজের ওয়াজিব কাজগুলোর কোনো একটি সঠিক সময়ে পালন না করলে বা ছেড়ে দিলে তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে পশু জবাই বা ‘দম’ দেওয়া আবশ্যক। কাজগুলো হলো:
- সাফা-মারওয়া সাঈ করা: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার দৌড়ানো বা সাঈ করা ছেড়ে দিলে দম ওয়াজিব হয়।
- মিকাতের বিধান লঙ্ঘন: হজের মিকাত বা সীমানা পার হওয়ার আগে ইহরাম না বাঁধলে দম দিতে হবে।
- আরাফাত থেকে আগে চলে আসা: ৯ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান না করে আগে বেরিয়ে গেলে দম ওয়াজিব।
- মুজদালিফায় অবস্থান: মুজদালিফায় রাতযাপন বা অবস্থানের ওয়াজিব আমলটি বাদ পড়লে দম দিতে হবে।
- মিনায় রাতযাপন: মুজদালিফার পর মিনায় অন্তত দুই রাত অতিবাহিত না করলে দম ওয়াজিব হয়।
- কঙ্কর নিক্ষেপ (রমি): শয়তানকে পাথর মারার কাজ সম্পন্ন না করলে দম দিতে হবে।
- হাদি বা কুরবানি: তামাত্তু ও কিরান হাজিদের জন্য হজের কুরবানি (দমে শোকর) না করলে দম ওয়াজিব।
- চুল কাটা: সঠিক সময়ে চুল মুণ্ডানো বা ছোট (হলক বা কসর) না করলে দম দিতে হবে।
- বিদায়ী তাওয়াফ: মক্কার বাইরের হাজিদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ না করে চলে গেলে দম ওয়াজিব হয়।
ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ
ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কোনো কাজ করা, যেমন—গুনাহের কাজ, তেমনি এটি হজকে অসম্পূর্ণ করে দেয়। তাই হজের সফরে প্রতিটি পদক্ষেপ ও আমল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা উচিত। হজের সময় দমের বিধান জানা থাকলে হাজিরা নিজেদের হজ শুদ্ধভাবে পালন করতে পারবেন।



