ঢাকার বায়ু মান উদ্বেগজনক, বিশ্বের নবম দূষিত শহরের মর্যাদা
বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী শহর ঢাকা সোমবার সকালে বায়ু দূষণের দিক থেকে নবম স্থান দখল করেছে। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে শহরটির বায়ু মান সূচক (একিউআই) স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৩১, যা 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিভুক্ত।
বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর তালিকা
একিউআই সূচকে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই ১৯৮ স্কোর নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে। পাকিস্তানের লাহোর ১৮৪ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় এবং ভারতের দিল্লি ১৬৬ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ঢাকা ১৩১ স্কোর নিয়ে নবম স্থানে রয়েছে, যা শহরের বায়ু মানের ক্রমাবনতির চিত্র তুলে ধরছে।
বায়ু মান সূচকের শ্রেণিবিভাগ
বায়ু মান সূচকের মাপকাঠি অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ স্কোর 'মধ্যম' মান হিসেবে বিবেচিত হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিভুক্ত। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর 'অস্বাস্থ্যকর', ২০১ থেকে ৩০০ 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর' এবং ৩০০-এর উপরের স্কোর 'বিপজ্জনক' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
বায়ু মান সূচক কী এবং কীভাবে পরিমাপ করা হয়?
বায়ু মান সূচক (একিউআই) দৈনিক বায়ুর মান প্রতিবেদনের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত তা নির্দেশ করে এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাবগুলোর রূপরেখা তুলে ধরে। বাংলাদেশে, একিউআই পাঁচটি প্রধান দূষণকারীর উপর ভিত্তি করে গণনা করা হয়: বস্তুকণা (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও₂), এবং ওজোন।
ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সমস্যার সাথে লড়াই করছে। শহরের বায়ুর মান সাধারণত শীতকালে খারাপ হয় এবং বর্ষার বৃষ্টির সাথে সাথে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নগরায়ন, যানবাহনের বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের কারণে এই সমস্যা তীব্রতর হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মৃত্যুর পিছনে প্রধান কারণগুলো হলো স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার মতো শহরে বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বায়ু দূষণ রোধে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ, সবুজায়ন বৃদ্ধি, যানবাহনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পকারখানার দূষণ কমানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি শহরের বাসিন্দাদের, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



