বান্দরবানে হরিণ শিকারি চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার
পাহাড়ি জঙ্গলে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করছিল একটি শিকারি চক্র। প্রমাণের অভাবে দীর্ঘকাল ধরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছিল না কর্তৃপক্ষ। অবশেষে দুই শিকারির বাড়িতে রান্না করা হরিণের মাংস পাওয়া গেলে চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গ্রেপ্তার ও মামলার বিস্তারিত
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের তুলাতলি বাজার এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বন্য প্রাণী আইনে মামলা দায়ের করার পর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দিল মোহাম্মদ (৪৪), তাঁর ছেলে আবু তাহের (১৮), মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ জোবায়ের (২৭) এবং আবদুস সালামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৮)। তারা সবাই জেলার সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারাগারে প্রেরিত এই চারজনই হরিণ শিকার চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে চিহ্নিত। তারা সুয়ালক ইউনিয়নের কাইচতলি ও প্রান্তিক লেক এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে নিয়মিত হরিণ শিকার করতেন। গতকাল নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দিল মোহাম্মদ ও আবদুস সালামের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি চলাকালে তাদের বাড়িতে রান্না করা হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়, যা শিকার কার্যক্রমের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য
সুয়ালক ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জসীম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ মিলিটারি ট্রেনিং এরিয়া (বিএমটিএ) এলাকায় লোকজন না থাকায় পাহাড়গুলোতে বনাঞ্চল গড়ে উঠেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই বনাঞ্চলে হরিণের বিচরণভূমি তৈরি হয়েছে। সেখানকার চালিঘাট পাহাড়ে গোপনে জালের ফাঁদ পেতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি শিকারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে হরিণ শিকার করে আসছে।
বন বিভাগের বান্দরবান সদর রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শিকারি চক্রের হরিণ শিকারের বিষয়টি তাদের আগে থেকে জানা ছিল। তবে কাউকে ধরতে পারছিলেন না প্রমাণের অভাবে। তিনি আরও যোগ করেন, গতকাল রাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পরিবেশগত প্রভাব ও আইনি পদক্ষেপ
এই ঘটনা পরিবেশ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হরিণ শিকার শুধুমাত্র বেআইনি নয়, বরং এটি বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। বন বিভাগ ও পুলিশের যৌথ অভিযানটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে ভূমিকা রাখতে পারে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে।



