সেন্টমার্টিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নতুন হোটেল-রেস্তোরাঁ নির্মাণ, অভিযোগ উঠেছে সরকারি প্রকল্পের মালামাল ব্যবহারের
সেন্টমার্টিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নতুন হোটেল-রেস্তোরাঁ নির্মাণ

সেন্টমার্টিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নতুন হোটেল-রেস্তোরাঁ নির্মাণ

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নতুন করে হোটেল ও রেস্তোরাঁ নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি প্রকল্পের মালামাল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গলাচিপা এলাকায়, সৈকতসংলগ্ন পরিবেশ অধিদফতরের কার্যালয়ের পাশেই ‘সান অ্যান্ড স্যান্ড টুইন বিচ রিসোর্ট’-এর অধীনে তিনতলা ফাউন্ডেশনবিশিষ্ট একটি রেস্তোরাঁ ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের চোখের সামনে এ নির্মাণকাজ চললেও কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, দ্বীপে চলমান কয়েকটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য নেওয়া রড, সিমেন্ট ও ইটের একটি অংশ গোপনে বিক্রি করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষিত সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার ছুটির সময় গোপনে এই কাজ শুরু হয়। যাতে বিষয়টি জনসম্মুখে না আসে। পরিবেশ অধিদফতরের কার্যালয়ের পাশেই কীভাবে নতুন স্থাপনা নির্মাণ হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন। এ ছাড়া দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া, কোনাপাড়া ও পূর্বপাড়াসহ দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে আরও কয়েকটি হোটেল ও পর্যটনকেন্দ্রিক স্থাপনার নির্মাণকাজ চলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে এসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশ অধিদফতর কার্যালয়ের কাছাকাছি গলাচিপা এলাকায় নতুন একটি হোটেল ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমরা জেনেছি। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্মাণসামগ্রী কোথা থেকে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মালামাল বিক্রির কোনও ঘটনা ঘটেছে কিনা, সেটিও তদন্ত করা হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে ‘সান অ্যান্ড স্যান্ড টুইন বিচ রিসোর্ট’-এর পরিচালক ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘এটি নতুন কোনও নির্মাণকাজ নয়, আগের চলমান কাজ। বর্তমানে অর্থসংকটের কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে।’ তবে নির্মাণকাজের অনুমোদন ছিল কিনা, জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

কক্সবাজারভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) প্রধান নির্বাহী এম. ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘প্রশাসনের কার্যকর তদারকির অভাবে প্রবাল দ্বীপে নতুন করে দালানকোঠা নির্মাণ হচ্ছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এভাবে চলতে থাকলে একসময় সেন্টমার্টিন তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলবে।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে নতুন করে হোটেল-রেস্তোরাঁ করার কোনও সুযোগ নেই। কয়েকদিন আগে আমরা একটি হোটেল নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। এ বিষয়ে কোনও ছাড় নেই। আমরা নতুন দালানকোঠা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবো।’

উল্লেখ্য, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দায়ের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দ্বীপে নতুন পাকা স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত এই দ্বীপে নতুন কোনও স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেন্টমার্টিনে কোনও স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে প্রশাসনসহ একটি প্রভাবশালী চক্রকে ‘ম্যানেজ’ করতে হয়। তাদের সহযোগিতায় টেকনাফ থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে নিয়মিত ইট, বালু, রড, সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রী দ্বীপে প্রবেশ করছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর তদারকি না থাকায় এসব সামগ্রী সহজেই নির্মাণস্থলে যাচ্ছে এবং গড়ে উঠছে নতুন নতুন হোটেল, কটেজ ও রেস্তোরাঁ।