সিরাজগঞ্জে কোরবানির হাট জমে উঠেছে, দাম বেশি ক্রেতাদের অভিযোগ
সিরাজগঞ্জে কোরবানির হাট জমে উঠেছে, দাম বেশি ক্রেতাদের অভিযোগ

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতার হাকডাকে মুখরিত হয়ে উঠছে হাট প্রাঙ্গণ। তবে এবছর পশুর দাম বেশি বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা।

জেলায় অর্ধশত পশুর হাট

জেলায় কালিয়াকান্দাপাড়া, তালগাছি, এনায়েতপুর, সমেশপুর, চান্দাইকোনা, বাগবাটি, রতনকান্দি, বহুলি, উল্লাপাড়া গ্যাস হাটসহ স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত পশুর হাট বসেছে। ইতোমধ্যে এসব হাটে খামারি ও ব্যাপারীরা বিক্রির উদ্দেশ্যে গরু-ছাগল নিয়ে আসতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি পছন্দের পশু কিনতে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে।

মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি

ক্রেতারা জানান, এবছর মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি থাকায় দাম তুলনামূলক বেশি। তবে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি গরুর দিকেই বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবছর জেলায় মোট ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদি পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। এসব পশু বিক্রি হলে অর্থনৈতিক মূল্য দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত সরবরাহ

জেলার কোরবানির চাহিদা ২ লাখ ৯৩ হাজার পশু, ফলে চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭২৩টি পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ অন্যতম।

ক্রেতা ও খামারিদের বক্তব্য

কালিয়াকান্দাপাড়া হাটে গরু কিনতে আসা আব্দুস ছালাম জানান, বড় গরুর তুলনায় মাঝারি গরুর দাম বেশি মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, “পছন্দের গরু এখনো পাইনি, না পেলে আগামী হাটে আসব।” রঘুনাথপুর গ্রামের খামারি আব্দুল হাই জানান, তার খামারে ১০টি ষাঁড় পালন করতে ২০ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। কিন্তু ব্যাপারীরা ১০টি গরুর দাম ১৮-২০ লাখ টাকা বলছেন, এতে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, “হাটে তুলে দেখি কত দাম পাওয়া যায়।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাটে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

অন্যদিকে গরুর পাইকার আব্দুল জানান, বাজারে গরুর দাম স্বাভাবিক রয়েছে। সদর উপজেলার তালগাছি হাটের ইজারাদার আব্দুল জব্বার জানান, হাটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং জাল টাকা শনাক্তে ব্যাংক প্রতিনিধিও নিয়োজিত রয়েছেন।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বক্তব্য

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, প্রতিটি উপজেলায় খামার পরিদর্শন করে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। খামারিরা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিকভাবে পশু মোটাতাজা করছেন। এছাড়া প্রশিক্ষণ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত মনিটরিং চলছে এবং পশু বিক্রিতে সহায়তার জন্য অনলাইন প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জেলায় ২৭টি স্থায়ী ও ২০টি অস্থায়ী হাটের মাধ্যমে এসব পশু বিক্রি করা হচ্ছে। হাটগুলোতে ভেটেরিনারি টিমসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।