কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো নীলফামারীর সৈয়দপুরেও জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর বাজার। ইতিমধ্যে অনেকেই কোরবানির জন্য গরু, ছাগল ও খাসি কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে সৈয়দপুর শহরের গোলহাট এলাকায় একটি ব্যতিক্রমী খাসি নজর কেড়েছে স্থানীয়দের। খাসিটির নাম ‘সুলতান’, আর মজার বিষয় হলো এর মালিকের নামও সুলতান। ফলে এলাকায় এটি পরিচিতি পেয়েছে ‘সুলতানের সুলতান’ নামে।
‘সুলতানের সুলতান’-এর বিশেষত্ব
জানা গেছে, প্রায় ৬৫ কেজির বেশি ওজনের খাসিটি সম্পূর্ণ বাসার পরিবেশে যত্ন সহকারে লালন-পালন করা হয়েছে। খাসিটির মালিক সুলতান জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি নিজের সন্তানের মতো করে পশুটিকে বড় করেছেন। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ফিড বা ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিক খাবার, ঘাস, ভুসি ও ঘরোয়া পরিচর্যার মাধ্যমে খাসিটিকে প্রস্তুত করা হয়েছে কোরবানির জন্য। তিনি আরো বলেন, খাসিটাকে অনেক যত্ন করে বড় করেছি। তাই এটাকে নিয়ে আমাদের পরিবারের আলাদা আবেগ কাজ করে।
স্থানীয়দের আগ্রহ ও দরদাম
ইতিমধ্যে অনেকেই এসে খাসিটি দেখে গেছেন এবং দরদামও করছেন। খাসিটির সুঠাম গঠন, চকচকে শরীর ও শান্ত স্বভাবের কারণে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে খাসিটি দেখছেন। কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে প্রশংসা করছেন। মালিক সুলতান জানান, খাসিটির দাম ১ লাখ টাকার মতো চাওয়া হলেও আগ্রহী ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কিছুটা কম দামে বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে তিনি এমন একজন ক্রেতার কাছেই খাসিটি দিতে চান, যিনি পশুর যথাযথ মূল্যায়ন করবেন।
বাসায় পশু পালনের প্রবণতা
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে অনেকেই খামারের পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও কোরবানির পশু লালন-পালন করছেন। এতে একদিকে যেমন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পশুর প্রতি মমত্ববোধ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে ছোট পরিসরে পশু পালন করে বাড়তি আয়ও সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এমন উদ্যোগ অনেকের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠছে। বাসায় লালন-পালন করা পশুর প্রতি মানুষের আলাদা আস্থা থাকে। কারণ এসব পশু সাধারণত বেশি যত্নে বড় করা হয় এবং স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও ভালো থাকে। আর সেই কারণেই এবার কোরবানির ঈদে ‘সুলতানের সুলতান’ স্থানীয়দের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।



